প্রকৃতির রুদ্রমূর্তি সিকিমে! ধসে প্রাণ গেল 3 জওয়ানের, আটকে পড়া পর্যটকদের ঘরে ফেরার পালা

সিকিমের পাহাড় যেন কাঁদছে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তর সিকিম। ধসের কবলে পড়ে প্রাণ হারালেন তিন জন জওয়ান, এখনও নিখোঁজ ছয় জন। তবে দুর্যোগের মেঘ সরিয়ে সামান্য হলেও স্বস্তির হাওয়া। দু’দিন ধরে আটকে থাকার পর অবশেষে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন পর্যটকেরা। সোমবার সকাল থেকেই লাচেন ও লাচুংয়ে আটকে থাকা পর্যটকদের নিরাপদে ফেরানোর কাজ শুরু করেছে সিকিম সরকার।
এদিন প্রথম দফায় ১৮টি গাড়িতে করে পর্যটকদের চুংথাং-ফিদাং রোড দিয়ে লোয়ার ডিজঙ্গু এলাকায় নিয়ে আসা হয়। স্থানীয় পর্যটন সংস্থা, গাড়িচালক সংস্থা, পর্যটন দফতর, ইন্দো টিবেটিয়ান বর্ডার পুলিশ ফোর্স, বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন, ভারতীয় সেনা ও বন দফতরের যৌথ উদ্যোগে পর্যটকদের নিরাপদে ফেরানোর এই কাজ শুরু হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ২৮৪টি গাড়ি ও ১৬টি বাইকে মোট ১৬৭৮ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭৩৭ জন পুরুষ, ৫৬১ জন মহিলা ও ৩৮০ জন শিশু রয়েছে। ফিদাং সড়ক ধরে তাঁদের গ্যাংটকের দিকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন সিকিম পুলিশের ডিজিপি অক্ষয় সচদেবা ও মঙ্গন জেলার জেলাশাসক অনন্ত জৈন। এছাড়াও আইজি (আইনশৃঙ্খলা) তাশি ওয়াঙ্ঘ্যায়াল, ডিআইজি (গ্যাংটক) প্রতাপ প্রধান ও মঙ্গনের পুলিশ সুপার সোনম ডেটচু ভুটিয়াও সেখানে ছিলেন। নিরাপদে ফিরতে পেরে পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পর্যটকেরা।
প্রসঙ্গত, টানা বৃষ্টির জেরে উত্তর সিকিমের একাধিক জায়গায় ধসের ঘটনা ঘটে। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় লাচেন ও লাচুং। সেখানে আটকে পড়েন প্রায় ১৫০০-রও বেশি পর্যটক। গত দু’দিন ধরে ওই দুই পর্যটন কেন্দ্রে আটকে ছিলেন তাঁরা। উদ্ধারকাজে নামলেও টানা বৃষ্টি ও নতুন করে ধসের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। সোমবার সকাল থেকে বৃষ্টি কিছুটা থামলে আটকে থাকা পর্যটকদের উদ্ধার করা শুরু হয়।
এই বিষয়ে মঙ্গনের জেলাশাসক অনন্ত জৈন জানান, “পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। তাঁদের গ্যাংটকে ফেরানোর কাজ চলছে। অন্যদিকে, ধসে মৃতদের উদ্ধারকাজও শুরু হয়েছে।” জানা গিয়েছে, উত্তর সিকিমের ছাটেন এলাকায় রবিবার রাতে ভয়াবহ ধসের ঘটনা ঘটে। সেই ধসের কবলে চাপা পড়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে তিনজনই জওয়ান বলে জানা গিয়েছে। তবে ধসে চাপা পড়ার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সেনা আধিকারিক ও প্রশাসনের কর্তারা।
জানা গিয়েছে, নিহত জওয়ানরা হলেন লানসনায়েক মুনীষ ঠাকুর, হাবিলদার লাখবিন্দর সিং ও পোর্টার অভিষেক লাখাডা। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রীতপাল সান্ধু, তাঁর স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার আরতি সান্ধু, তাঁদের কন্যা আমাইরা সান্ধু, সুবেদার ধর্মবীর, সেপাই সাইনুধীন পিকে ও সেপাই সুনীলালসেপাহরি। প্রকৃতির এই রুদ্রমূর্তি কবে শান্ত হবে, আর কবে নিখোঁজ জওয়ানদের সন্ধান মিলবে, সেই প্রার্থনাই এখন সকলের মুখে।