“জমি আমাকে লিখে দিতে হবে…”-ক্যান্সার আক্রান্ত কে গ্রামছাড়া করার হুমকি BJP নেতার

পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার থানার অধীন বড়বেলুন গ্রামে এক ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। ভয়ে ও আতঙ্কে রোগীর পরিবারের সদস্যরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন থানায়। অভিযুক্ত ওই বিজেপি নেতার নাম রাজকুমার হাজরা।

জানা গেছে, বড়বেলুনের বাসিন্দা পার্থসারথী চক্রবর্তী-এর একটি জায়গাকে কেন্দ্র করেই এই হুমকি ও চমকানির ঘটনা। অভিযুক্ত রাজকুমার হাজরা মৌখিকভাবে জায়গাটি কিনতে চেয়েছিলেন। পার্থসারথী চক্রবর্তী জানান, অনেক আগে রাজকুমার তাঁকে বলেছিলেন ২০২৬ সালে তিনি জায়গাটি কিনবেন। কিন্তু এরই মধ্যে পার্থসারথী বাবু ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসার খরচ যোগাতে তাঁর দ্রুত জায়গা বিক্রির প্রয়োজন হয়। তাই তিনি পরিচিত গ্রামেরই সুদেব রেজ-এর সঙ্গে জায়গাটি বিক্রির জন্য চুক্তি করেন এবং বায়না গ্রহণ করেন।

অভিযোগ, এরপর হঠাৎ করে গত ২৪শে মে তারিখে রাজকুমার হাজরা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে পার্থসারথী চক্রবর্তীর বাড়িতে চড়াও হন। সেই সময় তাঁর ছেলে পল্লব বাড়িতে ছিলেন না। পার্থসারথী চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী এবং পুত্রবধূকে হুমকি দিয়ে রাজকুমার বলেন যে, “ওই জায়গা কাউকে বিক্রি করা যাবে না, আমাকে লিখে দিতে হবে।” এমনটা না করলে তিনি গ্রামছাড়া করবেন এবং সবাইকে মিথ্যা মামলায় জেল খাটাবেন। একই সঙ্গে রাজকুমার তাদের ভয় দেখিয়ে বলেন, তিনি বিজেপির নেতা, তাঁর হাত কতদূর লম্বা তা পার্থসারথী চক্রবর্তীদের জানা নেই।

অভিযোগ, এরপর মোবাইল ফোনেও রাজকুমার হাজরা হুমকি দেন। পার্থসারথী চক্রবর্তীর ছেলে পল্লব চক্রবর্তী গত ২৯শে মে ভাতার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে তিনি রাজকুমার হাজরাকে একজন সমাজবিরোধী উল্লেখ করে লেখেন, “সমাজ বিরোধী কর্তৃক ক্যান্সার আক্রান্ত আমার বাবার নামে থাকা জায়গা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

বর্তমানে ওই জায়গার ক্রেতা রেজ দম্পতি, সুদেব রেজ ও বৈশাখী রেজ। পার্থসারথী চক্রবর্তী তাঁর ওই জায়গা তাদের কাছেই বিক্রি করছেন। কিন্তু এতেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে জানা যাচ্ছে। এবার বিজেপি নেতার নিশানায় রেজ পরিবারও।

জায়গার ক্রেতা বৈশাখী রেজ-এর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭শে মে, যখন তিনি বাড়িতে একা ছিলেন, তখন রাজকুমার হাজরা তাঁর মা প্রতিমা হাজরা এবং আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে এসে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। তিনি বলেন যে, তাঁর স্বামী যেন কোনোভাবেই পার্থসারথী চক্রবর্তীর কাছ থেকে কোনো জায়গা না কেনে। যদি কেনে, তাহলে তাদের ছেলেকে প্রাণে শেষ করে দেওয়া হবে এবং তাঁর স্বামীর নামে মিথ্যা কেস দিয়ে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করানো হবে। বৈশাখী রেজ জানান, তাঁর স্বামী কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। তিনি এই ঘটনায় শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এই বিষয়ে তিনিও ভাতার থানায় দ্বারস্থ হয়েছেন।

যদিও এই সমগ্র বিষয়ে রাজকুমার হাজরাকে ফোন করা হলে তিনি সরাসরি কোনো রকম প্রতিক্রিয়া দিতে অস্বীকার করেন। তিনি জানান, কেউ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেই পারে, কিন্তু তিনি এসব নিয়ে মিডিয়ার কাছে কোনো কথা বলবেন না।

এই ঘটনাটি এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং বিজেপি নেতার এমন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।