হাসিনাকে দেশছাড়া করতে কীভাবে সাহায্য করেছিল পাকিস্তান? জানিয়ে দিল জঙ্গিরাই!

বাংলাদেশের রাজনীতিতে পাকিস্তানের প্রচ্ছন্ন প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনা এবার এক চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তিতে স্পষ্ট হলো। পাকিস্তানের নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী জামাত-উদ-দাওয়ার নেতারা সরাসরি স্বীকার করে নিয়েছেন যে, গত বছর বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে উৎখাত করার আন্দোলনে তাদের হাত ছিল। এই ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

পাকিস্তানের রহিম ইয়ার খানে দাঁড়িয়ে জামাত-উদ-দাওয়ার নেতা এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের ঘোষিত জঙ্গি সইফুল্লা কসুরি ও মুজাম্মিল হাশমি এক বক্তৃতায় এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। সইফুল্লা কসুরি বলেন, “আমি চার বছরের ছিলাম যখন ১৯৭১ সালে পাকিস্তান দ্বিখণ্ডিত হয়। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন যে দুই দেশ তত্ব তিনি খলিজে (বঙ্গোপসাগর) ডুবিয়ে দিয়েছেন। ১০ মে আমরা ১৯৭১ সালের বদলা নিয়েছি।”

কসুরি তার বক্তব্যে গত ৭ মে ভারতের এয়ারস্ট্রাইকে লস্কর-ই-তৈবার কমান্ডার মুদাস্সরের মৃত্যু স্বীকার করে নেন। তিনি বলেন, “আমায় ওঁর (মুদাস্সর) শেষকৃত্যেও যোগ দিতে দেওয়া হয়নি। ওইদিন আমি খুব কেঁদেছিলাম। আমরা পরবর্তী প্রজন্মকে তৈরি করছি জিহাদের জন্য। আমরা মরতে ভয় পাই না।”

অন্যদিকে, আরেক জঙ্গি মুজাম্মিল হাশমি বলেন, “গত বছরও আমরা তোমাদের বাংলাদেশে হারিয়েছি।” তাদের এই মন্তব্যই স্পষ্ট করে দেয় যে, বাংলাদেশে গত বছর ঘটে যাওয়া বৈষম্য বিরোধী ছাত্র গণ আন্দোলন ও বিক্ষোভের পিছনে পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠীর সরাসরি মদত ছিল।

প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ওই জঙ্গি হামলার যোগ্য জবাব দিতে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায়। এরপর দুই দেশের মধ্যে তীব্র সংঘাত শুরু হয়েছিল, যা ১০ মে সংঘর্ষ বিরতির পর কিছুটা স্তিমিত হয়। তবে পাকিস্তানি জঙ্গি নেতাদের এই সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাদের হস্তক্ষেপের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনল, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে।