রাজ্যে ফের বাড়ছে করোনা, মার্কেট থানার অ্যাডিশনাল ওসি সহ, ২৪ ঘণ্টায় ৮২ জন আক্রান্ত

পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আবারও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে ৮২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, যা নিয়ে মোট কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৭। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, সারা দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭৫৮ জন। এই বৃদ্ধির মধ্যেই চারু মার্কেট থানার অ্যাডিশনাল ওসি কুন্তল বিশ্বাস করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি বর্তমানে নিজের বাড়িতেই আইসোলেশনে রয়েছেন।

নতুন ভ্যারিয়েন্ট এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা:

নভি মুম্বইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালের জেনারেল মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. ভারত আগরওয়াল এই প্রসঙ্গে বলেন যে, এই পর্যায়ে কোভিড-১৯ ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী রয়েছে। এর জন্য তিনি ভ্যাকসিন এবং পূর্বের সংক্রমণ থেকে অর্জিত স্বাভাবিক ইমিউনিটিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ডা. আগরওয়ালের বক্তব্য অনুযায়ী, JN.1-এর মতো নতুন ভ্যারিয়েন্টকে আপাতত খুবই মৃদু স্ট্রেন বলেই গণ্য করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই যে ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে – সে ভ্যাকসিন থেকেই হোক, স্বাভাবিক ভাবেই হোক কিংবা হাইব্রিডই হোক, তা কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে। বর্তমানে কোনো অতিরিক্ত অথবা ভ্যারিয়েন্ট-নির্দিষ্ট বুস্টারের প্রয়োজন নেই। ইতিমধ্যেই যে ভ্যাকসিন নেওয়া হয়েছে, তা সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং উপসর্গের তীব্রতা হ্রাস করতে উদ্দেশ্য সাধন করবে।

তবে, ডা. আগরওয়াল আগের মতোই প্রাথমিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগুলি অবলম্বনের উপরে জোর দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হল – জনবহুল জায়গায় মাস্ক পরে থাকা, হাত পরিষ্কার রাখা ইত্যাদি।

অ্যান্টিবডি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব:

আগের কোভিড-১৯ সংক্রমণের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি প্রসঙ্গে ডা. আগরওয়াল ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন যে, এই ধরনের অ্যান্টিবডিগুলির ধীরে ধীরে অবনতি হয়, যা ইমিউন রেসপন্সের অত্যন্ত স্বাভাবিক অঙ্গ। তিনি আরও বলেন যে, যদিও এটা সম্পূর্ণ ভাবে লুপ্ত হয় না, আর তা দেহের প্রতিরক্ষা কৌশলকে সাহায্য করে।

এই সংক্রমণ আমাদের দেহকে দুর্বল করে দিয়েছে, তবে মনেও এর জেরে পড়েছে গভীর ছাপ। জার্নাল অফ ফ্যামিলি মেডিসিন অ্যান্ড প্রাইমরি কেয়ার-এর এক গবেষণা থেকে জানা গেছে যে, অতিমারীর কালে ভারতে, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা বেশি পরিমাণে দেখা দিয়েছে। আবার বিশ্বব্যাপী পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে যে, কোভিড ছড়িয়ে পড়ার প্রথম বছরে উত্তেজনা এবং মানসিক অবসাদ ২৫ শতাংশ বেড়েছিল।

রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য দপ্তর এবং সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।