স্বামীকে কুচি কুচি করে ভরেছিল সিমেন্টের ড্রামে, সেই মুসকানই এখন আইনজীবী হতে চায়! আর্জি জানিয়েছেন পুলিশের কাছে

মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতকে নির্মমভাবে খুন করে ড্রামে ভরে সিমেন্ট দিয়ে সিল করে দেওয়ার সেই ভয়ঙ্কর ঘটনা এখনও অনেকের স্মৃতিতে টাটকা। এবার সেই মামলার মূল অভিযুক্ত, সৌরভের স্ত্রী মুসকান রাস্তোগীই ফের শিরোনামে। জেলবন্দি মুসকান সম্প্রতি পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে এক অভিনব আর্জি জানিয়েছেন – তিনি জেলের ভেতরেই আইন নিয়ে পড়াশোনা করতে চান, যাতে আদালতে নিজের হয়ে নিজেই লড়তে পারেন।
মুসকান বর্তমানে উত্তর প্রদেশের মিরাটের জেলে বন্দী রয়েছেন। জেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, মুসকান তাঁর বর্তমান আইনজীবীর মামলা লড়ার ধরনে সন্তুষ্ট নন। সে কারণেই তিনি নিজেই নিজের আইনি লড়াই চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে, মুসকানের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হওয়ায়, আইন (এলএলবি) ডিগ্রি অর্জনের জন্য তাঁকে প্রথমে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করতে হবে। জেল কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখছে।
কী ঘটেছিল সেদিন?
প্রসঙ্গত, গত ১৮ই মার্চ মিরাটের ব্রহ্মপুরীর বাড়ি থেকে সৌরভ রাজপুতের ড্রামবন্দি ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে জানা যায়, সৌরভের স্ত্রী মুসকান রাস্তোগী এবং তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্লা মিলে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও execution করেছিল। সৌরভকে খুন করার পর তাঁর দেহ ছয় টুকরো করা হয় এবং একটি নীল ড্রামে সেই দেহ ভরে সিমেন্ট দিয়ে সিল করে দেওয়া হয়।
হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পর মুসকান ও সাহিল সৌরভের দেহ ড্রামে ভরে হিমাচল প্রদেশে ঘুরতে চলে গিয়েছিল। কিন্তু পরে মুসকান তাঁর মা-বাবার কাছে অপরাধ স্বীকার করে নেয়। তাঁর বাবা-মা-ই পুলিশে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন এবং এরপর পুলিশ মুসকান ও সাহিলকে গ্রেফতার করে। সম্প্রতি পুলিশ এই মামলায় ১০০০ পাতার চার্জশিট আদালতে জমা দিয়েছে, যেখানে মুসকানের মা-বাবাও তাঁর বিরুদ্ধেই বয়ান দিয়েছেন।
এই চাঞ্চল্যকর মামলায় মুসকানের আইন পড়ার ইচ্ছা, মামলার নতুন এক দিক উন্মোচন করলো। এখন দেখার, জেলের ভেতরে তাঁর এই আইন পড়াশোনার সুযোগ মেলে কিনা এবং এর ফলে মামলার গতিপ্রকৃতিতে কোনো পরিবর্তন আসে কিনা।