বাগানে আম কুড়োনোয় বেধড়ক মারধর, SSKM-এ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ১০ বছরের নাবালক

উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় ঘটল একই রকম এক অমানবিক ঘটনা। প্রতিবেশীর বাগানে আম কুড়োতে গিয়েছিল বছর দশের এক নাবালক। আর সেই ‘অপরাধে’ বাগানের মালিকের বেধড়ক মারে সে এখন কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। পুলিশ অভিযুক্ত মেঘনাথ মারিককে (৩০) গ্রেফতার করেছে।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বিকালে উলুবেড়িয়ার কৈজুড়ি শা পাড়ায়। জানা গেছে, ওই পাড়ার চার নাবালক একটি বাগানে আম কুড়োতে যায়। বাগানের মালিক মেঘনাথ তাদের দেখতে পেয়ে তাড়া করেন। তিন জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, এক নাবালককে ধরে ফেলেন তিনি। অভিযোগ, এরপরই মেঘনাথ ওই নাবালককে বেধড়ক মারধর করেন এবং তুলে আছাড় মারেন। মারের চোটে নাবালকটি সেখানেই অচৈতন্য হয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে যে, এরপর অভিযুক্ত তাকে রাস্তার ধারে ফেলে রেখেই পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে নাবালকের পরিবার তাকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে দ্রুত কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উলুবেড়িয়া থানায় নাবালকের পরিবার একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মেঘনাথ মারিককে গ্রেফতার করে। শুক্রবার তাকে উলুবেড়িয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। যদিও অভিযুক্তের পরিবার মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে কাঁচরাপাড়ার বাসন্তীতলায় একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। একটি বাগান থেকে আম পাড়ার ‘অপরাধে’ সুদীপ্ত পণ্ডিত নামে এক কিশোরকে বাগানের পাহারাদার বেধড়ক মারধর করেন, যার ফলে তার মৃত্যু হয়। এছাড়াও, কয়েকদিন আগে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় চিপসের প্যাকেট চুরির অভিযোগে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রকে দোকানদার মারধর করেন এবং তাকে চোর অপবাদ দিয়ে কান ধরে ওঠবস করান। সেই অপমান সইতে না পেরে কৃষ্ণেন্দু দাস নামে ওই ছাত্র কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করে।