খাবারের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ, চিৎকার করতেই নাবালিকাকে ‘খুন’! ‘ক্রাইম সিনে’ পরেও যায় অভিযুক্ত! দাবি পুলিশ সূত্রের

হুগলির কানাইপুরে এক ১৩ বছরের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন নাবালিকাকে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধ করে খুনের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই নৃশংস কাণ্ডে অভিযুক্ত প্রতিবেশী যুবক অসীম মজুমদারকে ডানকুনি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খাবারের লোভ দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নাবালিকাকে, এরপর তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে খুন করা হয়। অভিযোগ, খুনের পর অভিযুক্ত নিজেই ‘ক্রাইম সিনে’ ফিরে এসে দেহের অবস্থা দেখে গিয়েছিল।
মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকাল চারটে থেকে হুগলির কানাইপুরের বাসিন্দা ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরী নিখোঁজ ছিল। পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী যুবক অসীম মজুমদারই তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। বিস্তর খোঁজাখুজির পর বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাতে ন’পাড়া বাঁশঝাড় এলাকা থেকে তার বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অসীম নাবালিকাকে খাবারের লোভ দেখিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় এবং বিস্কুট কিনে দেয়। এরপর তাকে ন’পাড়া বাঁশঝাড় এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। নির্যাতনে কিশোরী চিৎকার শুরু করলে অসীম তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দেহ ফেলে পালিয়ে আসে। ঘটনার সময় অভিযুক্ত মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলেও জানা যাচ্ছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, খুনের পর অভিযুক্ত নাকি ঘটনাস্থলে ফিরে এসে দেহের অবস্থা দেখে গিয়েছিল। এরপর সে বাড়িতে না ফিরে বিভিন্ন ধাবা ও রাস্তার হোটেলে আত্মগোপন করে ছিল।
নাবালিকার দেহ উদ্ধারের ঘণ্টা তিনেকের মধ্যেই পুলিশ অভিযুক্ত অসীম মজুমদারকে ডানকুনির খরিয়াল থেকে গ্রেফতার করে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন থানায় অভিযুক্তের ছবি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে চিহ্নিত করা হয়। স্থানীয়রা তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। অভিযুক্তকে উত্তরপাড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতেই নাবালিকার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত নিজের দোষ স্বীকার করেছে। আজ, শুক্রবার তাকে আদালতে পেশ করা হবে। পুলিশ এই ঘটনায় ধর্ষণ ও খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। এই নৃশংস ঘটনাটি এলাকায় শোক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।