‘আমরা দুজন মিলে কী করব, দাঁড়িয়েই তো ছিলাম’ শিয়ালদা থেকে আন্দোলনকারীদের তোলা হল প্রিজন ভ্যানে

পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও, এদিনই ফের পথে নেমেছেন চাকরিহারা শিক্ষকরা। তাদের দাবি, তারা আর পরীক্ষা দিতে চান না, বরং হকের চাকরি ফেরত পেতে চান। শুক্রবার শিয়ালদা থেকে নবান্ন পর্যন্ত অর্ধনগ্ন মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা, যার জেরে নজিরবিহীন পুলিশি নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল শিয়ালদা চত্বর।

আন্দোলনরত শিক্ষকরা আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে তারা অর্ধনগ্ন অবস্থায় মহামিছিল করবেন। কিন্তু কর্মসূচি শুরুর আগেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়েছিল, “অনুমতি নেই, জমায়েত করবেন না, করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সকাল থেকেই শিয়ালদা চত্বরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। ৪ ডিভিশনের ডিসি-রা শিয়ালদা চত্বরে হাজির ছিলেন এবং মিছিল আটকে দেওয়ার প্রচেষ্টা স্পষ্ট ছিল।

মিছিল শুরুর আগেই পুলিশ রাস্তায় অপেক্ষারত চাকরিহারাদের প্রিজন ভ্যানে তুলে নিতে শুরু করে। “আমায় কেন তুলে নিয়ে যাচ্ছেন, আমি কী করেছি?”—এমন প্রশ্ন করেও কোনো উত্তর মেলেনি। দ্রুত তাদের প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। রাস্তার ধারে অপেক্ষারত দুই মহিলা শিক্ষিকাকেও পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। তারা চিৎকার করে প্রশ্ন করেন, “আমায় কেন নিয়ে যাচ্ছ….সরে যেতে বলেছিলেন সরে গেছি, তাও তুলছেন কেন?” তাদের প্রশ্নও অনুত্তরিতই থাকে। খাতায় কলমে এখনও সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তাদের প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। জমায়েতের বিন্দুমাত্র শুরুর আগেই পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয় এবং পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়, “জমায়েতে অনুমতি নেই, কেউ জমায়েত করবেন না।”

চাকরিহারা শিক্ষকরা বারবারই বলে আসছেন যে তারা নতুন করে পরীক্ষা দিতে চান না, বরং ২০১৬ সালের বাতিল প্যানেলের ভিত্তিতেই নিজেদের ‘হকের চাকরি’ ফেরত চান। এসএসসির নতুন বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষা পদ্ধতি ও নম্বর বিভাজনে পরিবর্তন আনা হলেও, আন্দোলনকারীরা তাদের অবস্থান থেকে সরতে রাজি নন।

এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে রাজ্য সরকার এবং চাকরিহারা শিক্ষকদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।