একমাসেই রেকর্ড! কত পর্যটক এসেছেন দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে?‌ জানলে চমকে যাবেন

নবনির্মিত জগন্নাথধামের উদ্বোধনের পর থেকেই সৈকতনগরী দিঘায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় যেন নতুন ইতিহাস তৈরি করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, দিঘার ইতিহাসে এমন বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সমাগম আগে কখনও দেখা যায়নি। সরকারি স্কুলগুলিতে গরমের ছুটি চলার কারণে জগন্নাথধাম দেখতে রেকর্ড সংখ্যক ভিড় জমেছে দিঘার সমুদ্রসৈকতে, যার ফলে পর্যটন ব্যবসায় এসেছে অভাবনীয় জোয়ার। দিঘার অসাধারণ স্থাপত্যের জগন্নাথধাম এখন শুধুমাত্র বাংলা নয়, বিদেশেরও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এমনকী, ওড়িশা থেকেও হাজার হাজার পর্যটক দিঘার জগন্নাথধাম দর্শনে আসছেন।

পর্যটকদের এই উচ্ছ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিতে সৈকতনগরী দিঘা আবারও এক বিপুল আয়োজনের সাক্ষী হতে চলেছে। আসন্ন রথযাত্রা উপলক্ষে এখানকার জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। বিগ্রহের পুজো থেকে শুরু করে সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান, সব কিছুতেই পুরীর ঐতিহ্য অনুসরণ করা হচ্ছে। রথযাত্রাতেও তার ব্যতিক্রম হবে না বলেই সকলে মনে করছেন। দিঘার জগন্নাথ মন্দির চত্বরেই বিশাল আকৃতির তিনটি রথ তৈরি রাখা হয়েছে, যা রথযাত্রার সময় প্রথা মেনেই সাজিয়ে তোলা হবে। রথযাত্রা উপলক্ষে মহোৎসব পালিত হবে, যা আরও বেশি সংখ্যক ভক্ত ও পর্যটকদের আকর্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ৩০ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণের জন্য দিঘার জগন্নাথধাম খুলে দেন। আর তার পর দিন থেকেই রাজ্যজুড়ে সরকারি স্কুলগুলিতে গ্রীষ্মের ছুটি চালু হওয়ায় দিঘায় কাতারে কাতারে পর্যটকের ঢল নামে। ব্যবসায়ীদের দাবি, মে মাস প্রায় শেষ হতে চলেছে, এবং এই একমাসে আনুমানিক প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ দিঘা ভ্রমণে এসেছেন। এই বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমনে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের মুখে হাসি ফুটেছে।

দিঘার এই জগন্নাথধাম সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের জন্য উন্মুক্ত। তাই এই তীর্থস্থানে সব ধর্মের মানুষজন ভিড় জমাচ্ছেন। চন্দনযাত্রা ও স্নানযাত্রাতেও ব্যাপক ভিড় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, জৈষ্ঠ্য মাসের পূর্ণিমা তিথিতে (১২ জুন, ২০২৫) জগন্নাথদেবের পবিত্র স্নানযাত্রার আয়োজন করা হবে, যা আরও বেশি ভিড় টানবে।

সাধারণত, গরমকালে পর্যটকরা দিঘা থেকে মুখ ফিরিয়ে দার্জিলিং কিংবা পুরীর দিকে ভিড় জমাতেন। তবে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো। প্রভু জগন্নাথের আশীর্বাদে দিঘা বর্তমানে পর্যটকদের ভিড়ে ঠাসা। হোটেল মালিক প্রেমতোষ ঘোড়াই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “দিঘায় গত একমাসে যে পরিমাণ পর্যটক এসেছে তা প্রমাণ করে দেয় জগন্নাথধাম দিঘার আকর্ষণকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। মে মাসে আমাদের প্রত্যেকটি রুম আগে থেকেই বুকিং হয়ে গিয়েছিল। চলতি বছরের মে মাস থেকে বদলে গিয়েছে দিঘার ছবি। জগন্নাথধাম মানুষের কাছে এক বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে, যার পিছনে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ।”

সূত্রের খবর অনুযায়ী, এবারের রথযাত্রায় দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং উপস্থিত থাকবেন এবং সোনার ঝাঁটা দিয়ে যাত্রাপথ ঝাঁট দেবেন। এই ঐতিহাসিক উপস্থিতিও রথযাত্রার আকর্ষণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। দিঘার এই নতুন অধ্যায় স্থানীয় অর্থনীতিতে এক নবজাগরণ নিয়ে এসেছে।