সিকিম সফর বাতিল, ভারতে অন্তর্ভুক্তির ৫০ বছর উদযাপনে ভার্চুয়ালিই অংশ নিলেন মোদী, বললেন….

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তে সিকিম সফর বাতিল করতে হলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। সিকিমের ভারতে অন্তর্ভুক্তির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে ভার্চুয়ালিই অংশ নিতে হলো। আজ তিনি বলেন, “যখন স্বাধীনতার শতবর্ষ পূরণ হবে, তখন সিকিমের ৭৫ বর্ষপূর্তি হবে। এখন থেকেই উন্নয়নের রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।”
পহেলগাঁওয়ে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিরা যা করেছে, তা শুধু ভারতীয়দের উপরে হামলা নয়, মানবতার উপরে হামলা ছিল। অনেক পরিবারের খুশি ছিনিয়ে নিয়েছে। ভারতকে বিভক্ত করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু ভারত একজোট রয়েছে।” তিনি জঙ্গি ও তাদের সঙ্গীদের স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন যে ‘অপারেশন সিঁদুর’ দিয়ে কড়া জবাব দেওয়া হয়েছে। জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস হওয়ায় পাকিস্তান পাগল হয়ে ভারতের সাধারণ নাগরিক ও সেনার উপরে হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “পাকিস্তানের মুখোশ খুলে গিয়েছে। আমরা ওদের একাধিক এয়ারবেস ধ্বংস করে বুঝিয়ে দিয়েছি ভারত কী করতে পারে, কতটা নিখুঁত নিশানা করে আক্রমণ করতে পারে।”
প্রধানমন্ত্রী ‘বিকশিত ভারতের’ চারটি মজবুত স্তম্ভ হিসেবে গরিব, কৃষক, নারী ও যুব-কে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, সিকিম থেকে পণ্য বিদেশে রফতানি করা হবে এবং অর্গানিক ফার্মিংয়ের পাশাপাশি অর্গানিক ফিশিংয়ের উপরেও জোর দেওয়া হবে। সিকিমকে একটি গ্লোবাল ট্যুরিজম স্পট হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে সিকিমের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সেখানে ৫০০ বেডের হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে এবং সস্তায় চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে সকল নাগরিককে বিনামূল্যে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সিকিমে স্বাস্থ্য, ট্যুরিজম ও স্পোর্টসের ব্যাপক বিকাশ হবে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সিকিম সহ পুরো উত্তর-পূর্ব ভারত নতুন ভারতের গাঁথা হয়ে উঠছে। নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সড়ক ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে।” তিনি জানান, সিকিমে ৪০০ কিলোমিটারের ন্যাশনাল হাইওয়ে তৈরি করা হয়েছে। অটল সেতু তৈরি হওয়ায় দার্জিলিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হয়েছে এবং বাগডোগরা-গ্যাংটক এক্সপ্রেসওয়ে দিয়েও যাতায়াত সহজ হয়েছে। আগামীদিনে গোরক্ষপুর-শিলিগুড়ি এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সিকিমকে যুক্ত করা হবে এবং দেশের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গেও সিকিমকে জোড়া হবে।
২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ ভাবনা নিয়ে সরকার উত্তর-পূর্বকে বিকাশের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির বদলে ‘অ্যাক্ট ফাস্ট’-এর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগেই সিকিম সহ উত্তর-পূর্বে বিরাট বিনিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে, যা যুব প্রজন্মের কর্মসংস্থান তৈরি করবে।
প্রধানমন্ত্রী সিকিমের গত ৫০ বছরের যাত্রাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এই ৫০ বছরে সিকিম প্রকৃতির সঙ্গে প্রগতির মডেল তৈরি করেছে। বায়ো-ডায়ভার্সিটির মডেল তৈরি হয়েছে। ১০০ শতাংশ অর্গানিক রাজ্য তৈরি হয়েছে। আজ সিকিম দেশের সেই রাজ্যগুলির মধ্যে শীর্ষে যার প্রতি ব্যক্তি পিছু আয় বেশি। এটা সিকিমবাসীর জন্যই সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, সিকিম থেকে অনেক তারকা উঠে এসেছেন, যারা দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।
৫০ বছর আগে সিকিম নিজের জন্য গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ তৈরি করেছিল এবং ভারতের আত্মার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটা ভরসা ছিল যে সবার কণ্ঠ শোনা হবে, সবার অধিকার নিশ্চিত হবে, বিকাশের সমান সুযোগ মিলবে। আমি আজ বলতে পারি, সিকিমের প্রতিটি পরিবারের ভরসা দিনে দিনে বেড়েছে। আজ সিকিম দেশের গর্ব।”
মুখ্যমন্ত্রীর পরিশ্রমের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের এই দিন বিগত ৫০ বছরের সংগ্রামকে উদযাপন করার দিন। আমি শুনছিলাম যে মুখ্যমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করার জন্য কতটা পরিশ্রম করেছেন। উনি নিজে দুবার দিল্লিতে এসে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে গিয়েছেন।”
শেষ মুহূর্তে সিকিমে পৌঁছতে না পারায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমি শুধু লোক দেখতে পাচ্ছি। খুব ভাল হত যদি আমি যেতে পারতাম। এর জন্য ক্ষমা চাইছি। রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিলেই আমি সিকিমে আসব, আপনাদের সঙ্গে দেখা করব।” তিনি আরও যোগ করেন, “আজকে এক বিশেষ দিন। সিকিমের গণতান্ত্রিক যাত্রার গোল্ডেন জুবিলি। আমি আপনাদের মাঝে উপস্থিত থেকে এই উৎসব-উদযাপনের অংশ হতে চেয়েছিলাম, সকাল সকাল দিল্লি থেকে বেরিয়ে বাগডোগরা পৌঁছে গেলাম, কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে আমি আপনাদের দরজা পর্যন্ত পৌঁছতে পারলেও, আপনাদের কাছে যেতে পারলাম না।