পুরুলিয়ায় অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ দায়ের! তদন্তে জিআরপি

পুরুলিয়া গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই কলেজেরই এক মহিলা চিকিৎসক। মঙ্গলবার পুরুলিয়া জিআরপি থানায় এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার স্থান বিষ্ণুপুর এলাকায় ট্রেনের মধ্যে হওয়ায়, পুরুলিয়া জিআরপি অভিযোগটি বাঁকুড়া জিআরপি থানায় পাঠিয়ে দিয়েছে।

অভিযোগকারিণী মহিলা চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সোমবার রাতে হাওড়া থেকে চক্রধরপুর এক্সপ্রেসের প্রথম শ্রেণির কামরায় পুরুলিয়ায় ফিরছিলেন। অভিযোগ, মঙ্গলবার ভোররাতে ট্রেন যখন বিষ্ণুপুর এলাকায় পৌঁছায়, তখন তাঁর উল্টো দিকের সিটে বসা অধ্যাপক তাঁর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন।

অভিযোগকারী চিকিৎসক বলেন, “আমি সোমবার কলকাতা থেকে পুরুলিয়া ফেরার জন্য ট্রেনে উঠেছিলাম। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটা নাগাদ ট্রেন যখন বিষ্ণুপুর ঢোকে, তখন আমার সিটের উল্টো দিকে থাকা অভিযুক্ত ব্যক্তি এমনভাবে শুয়েছিলেন যে, ওনার একটা হাত আমার দেহের কাছেই ছিল। যেহেতু উনি আমার পূর্বপরিচিত, তাই তখন ওনাকে আমি ঠিকমতো শুতে বলি। না-হলে উনি পড়ে যেতে পারেন সেই কথাও বলি। এরপর ভোর চারটে পঞ্চাশ নাগাদ আমার ঘুমটা ভেঙে যায়। কারণ ওই ব্যক্তি আমার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। আমি ট্রেন থেকে নেমে বিষয়টি আমার সহকর্মীদের জানাই। পরে পুরুলিয়া জিআরপি-তে অভিযোগ দায়ের করি।”

তিনি আরও জানান, “আমরা অনেকেই যেহেতু কলকাতা থেকে ট্রেনে নিয়মিত যাতায়াত করি, তাই অনেকেই আমরা একে অপরের পরিচিত। সেই সূত্রে ওই ব্যক্তির সঙ্গেও আমার পরিচয় ছিল। তবে ঘটনার সময় উনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। বুধবার সকালেও তিনি একাধিক বার ফোন করেছেন।”

অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি ও অবিলম্বে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন ওই মহিলা চিকিৎসক। তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে আমি চাকরি করছি। আমার সঙ্গে যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে তাহলে মেয়েরা কোথায় সুরক্ষিত। এই ঘটনায় অনেকেই ভীত হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি মহিলা কমিশনের সদস্যদেরও জানিয়েছি।”

এই ঘটনায় অভিযোগকারিণী চিকিৎসকের পাশে দাঁড়িয়েছেন অন্যান্য চিকিৎসক ও মেডিক্যাল পড়ুয়ারা। এক ডাক্তারি পড়ুয়া অনিন্দিতা রায় বলেন, “দোষীর যেন শাস্তি হয়। এই ধরনের ঘটনা যেন আর কারোর সঙ্গে না-ঘটে। আমরা ওনার পাশে আছি।” আরেক পড়ুয়া মোহিত সিং বলেন, “খুব বাজে ঘটনা। এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হল না কেন, সেটা ভেবেই অবাক হচ্ছি। আমরা এদিন পঠনপাঠন বন্ধ রেখেছি। ব্যবস্থা গ্রহণ না-হলে পরিষেবা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে।”

অভিযুক্ত অধ্যাপকের সঙ্গে এদিন ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ‘ব্যস্ত আছি’ বলে ফোন কেটে দেন।

ঘটনাটি ঘিরে পুরুলিয়ার চিকিৎসা মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বাঁকুড়া জিআরপি এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।