যাদবপুর থেকে বি.টেক পাশ, মা-বাবাকে খুন করে মাদ্রাসায় ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তান্ডব হুমায়ুনের

বর্ধমানের মেমারিতে বাবা-মাকে নৃশংসভাবে খুন করে পালিয়ে এসে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁতে একটি মাদ্রাসার মধ্যে ঢুকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠল পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হুমায়ুন কবির সিদ্দিকির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় মাদ্রাসার দুই শিক্ষক সহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বনগাঁ থানার পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে আটক করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে মাদ্রাসায় আজানের পর শিক্ষাদানের কাজ চলছিল। সেই সময় হঠাৎ করেই হুমায়ুন মাদ্রাসার মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং উপস্থিত শিক্ষক ও পরিচালকদের ধারাল দা, কুরুল দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে। ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বনগাঁর ওই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মাদ্রাসার সামনেই স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বনগাঁ পুলিশ জেলার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ কর্মীও আক্রান্ত হন বলে জানা গিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বনগাঁ পুলিশ জেলার এসপি দীনেশ কুমার বলেন, “হুমায়ুন ছরি দিয়ে হামলা চালিয়েছে। উনি নিজের মা-বাবাকে খুন করে পালিয়ে এসেছে।” পুলিশ ঘটনার উদ্দেশ্য এবং অভিযুক্ত কেন বর্ধমান থেকে সোজা বনগাঁ চলে এলো এবং মাদ্রাসার মধ্যে ঢুকে পড়লো, সবটাই খতিয়ে দেখছে।

উল্লেক্ষ্য, অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির সিদ্দিকি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.টেক পাশ করেছেন। চার বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু পরে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তিনি দিল্লিতে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। প্রায় চার-পাঁচ মাস আগে দিল্লি থেকে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন এবং পরে হিমাচল প্রদেশ থেকে তাঁর খোঁজ মেলে। এরপর তাঁর বাবা মুস্তাফিজুর রহমান ও মা মমতাজ পারভিন তাঁকে মেমারিতে ফিরিয়ে আনেন।

গতকাল বুধবার মেমারিতে বাবলুর বাবা-মায়ের গলা কাটা দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, হুমায়ুনই তাঁদের খুন করেছেন। এই মুহূর্তে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অভিযুক্ত যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।