ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি, মার্কিন আদালতে চাঞ্চল্যকর দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত ও চীনের মধ্যে মধ্যস্থতা করেছেন বলে বারবার দাবি করে এসেছেন। এবার আমেরিকার আদালতে তাঁর সরকার সেই মর্মে হলফনামা জমা দিল। ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরোধিতা করে আদালতে যে আবেদন জমা পড়েছিল, সেই সওয়ালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, ওই শুল্কনীতিকে হাতিয়ার করেই ট্রাম্প ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘটিয়েছেন।

দ্বিতীয়বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্প শুল্কের পাল্টা শুল্ক নীতি চালু করেন, যা ভারত, চীন-সহ একাধিক দেশের সঙ্গে কার্যত যুদ্ধের আবহ তৈরি করে। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও, বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্যের উপর এই ‘শুল্কযুদ্ধের’ প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

US Court of International Trade-এ ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠন ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তবে হোয়াইট হাউস আধিকারিকরা আদালতে যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, তাতে ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে ‘জিয়নকাঠি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, এই শুল্কনীতির দৌলতেই কৌশলগতভাবে আমেরিকার অবস্থান মজবুত হয়েছে এবং এটি আমেরিকার কূটনৈতিক হাতিয়ারও হয়ে উঠেছে। এর ফলে আমেরিকা নিজের শর্তে বাণিজ্যচুক্তি করতে সফল হচ্ছে। তাই শুল্কনীতিতে কোনো পরিবর্তন এলে আমেরিকা দুর্বল হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ট্রাম্প সরকারের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার, বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লাটনিক, ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট এবং বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও সকলেই এই শুল্কনীতির পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, এতে আমেরিকার অর্থনৈতিক শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে এবং এই শুল্কনীতিকে সামনে রেখেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে।

আদালতে লাটনিক বলেন, “পুরোদস্তুর যুদ্ধ এড়াতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যস্থতা করেন। দুই দেশকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যের প্রস্তাব দেন তিনি। তার দরুণই এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। আদালতের রায়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত হয়ে গেলে ভারত ও পাকিস্তান ট্রাম্পের বাণিজ্য প্রস্তাবের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। এর দরুণ ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে, লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।” লাটনিক আরও জানান যে, এই শুল্কনীতি ব্যবহার করেই ট্রাম্প চীনকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বৈরিতা নতুন মাত্রা পায়। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে ভারত, যা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করে। সেই পরিস্থিতিতেই ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন এবং দাবি করেন যে, ব্যবসা-বাণিজ্যের দোহাই দিয়ে তিনি দুই দেশকে নিরস্ত করেছেন। যদিও পাকিস্তান ট্রাম্পের এই দাবি অস্বীকার করেনি, ভারত জানিয়েছে যে পারস্পরিক সম্মতিতেই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান এবং কোনো তৃতীয় পক্ষ মাঝখানে ছিল না।