নির্বাচনকে স্বচ্ছ করতে কমিশনের অভিনব পদক্ষেপ, এবার বুথের বাইরেও লাইভ স্ট্রিমিং!

দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করতে নির্বাচন কমিশন একের পর এক অভিনব পদক্ষেপ নিচ্ছে। এবার বুথের বাইরেও লাইভ স্ট্রিমিং বা ওয়েবকাস্টিং চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে কমিশন, যা গণতন্ত্রের এই মহাযজ্ঞকে আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ করে তুলবে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে খবর, এই নতুন ব্যবস্থার মহড়া শুরু হতে পারে আসন্ন নদিয়ার কালীগঞ্জ উপনির্বাচন থেকেই। অর্থাৎ, এটি একরকমের ‘ট্রায়াল রান’ হিসেবে দেশের সবকটি জায়গায় চালু করার আগে পরীক্ষা করা হবে।
কেন এই নতুন উদ্যোগ?
বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে পদ্ধতিগতভাবে সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ করে তুলতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। ইতিমধ্যেই একাধিক নতুন নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছে। এতদিন পর্যন্ত কেবলমাত্র বুথের ভিতরে এবং ভোটগ্রহণ কক্ষে ওয়েবকাস্টিং করা হত। এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ কক্ষের ভিতরের গতিবিধির উপর সরাসরি নজর রাখতে পারত কমিশন। কোথাও কোনো রকম সমস্যার সৃষ্টি হলে দ্রুত তার সমাধান করা হত।
তবে, এবার কমিশন এক ধাপ এগিয়ে বুথের বাইরেও নজরদারি বাড়াতে চাইছে। জানা গিয়েছে, এবার থেকে বুথের ১০০ মিটারের মধ্যের গতিবিধির উপর নজর রাখতে চায় কমিশন। এই উদ্দেশ্যেই বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে লাইভ স্ট্রিমিং বা ওয়েবকাস্টিংয়ের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এর ফলে ভোটারদের লাইন থেকে শুরু করে সবার গতিবিধি সরাসরি কমিশনের নজরে থাকবে।
কালীগঞ্জ উপনির্বাচনে ‘হাতেখড়ি’র সম্ভাবনা:
যদি সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোয়, তাহলে আসন্ন কালীগঞ্জের বিধানসভা উপনির্বাচনেই এই নতুন ব্যবস্থার ‘হাতেখড়ি’ হতে পারে। এই ট্রায়াল রান কমিশনকে সাহায্য করবে কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে এবং কীভাবে এই ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা প্রয়োজন, তা বুঝতে।
অশান্তি ও অভিযোগের অবসান ঘটাতে:
নির্বাচনের সময় কিছু জায়গায় শাসক এবং বিরোধী পক্ষ বুথের বাইরে অশান্তি এবং গণ্ডগোলের অভিযোগ তোলে। এই অশান্তিকে ঘিরে চলে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, যা মীমাংসা করতে কমিশনকে অনেক সময় ধন্ধের মধ্যে পড়তে হয়। সেই অবকাশকে সম্পূর্ণভাবে দূর করতেই নির্বাচন কমিশন এই নতুন পথে হাঁটতে চলেছে। বুথের বাইরেও লাইভ স্ট্রিমিং চালু হলে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা সরাসরি নজরে আসবে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে, যা নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে।