অনিল আম্বানির অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন! ঋণের বোঝা থেকে সাফল্যের শিখরে

দীর্ঘদিন ধরে, অনিল আম্বানি চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি ছিলেন। চীনা ব্যাঙ্কগুলোর কাছে পাঁচ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা এবং লন্ডনে আইনি লড়াই তাঁর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। এমনকি, আদালতে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করে তিনি জানিয়েছিলেন, আইনজীবী নিয়োগ করার মতো অর্থও তাঁর কাছে নেই, এবং তাঁর পরিবারের খরচ স্ত্রী ও পুত্ররাই বহন করছেন।
কিন্তু, ২০২৫ সালে, এক অভাবনীয় পরিবর্তন ঘটে। ঋণের বোঝা কমিয়ে অনিল আম্বানি যেন নতুন জীবন ফিরে পান। তাঁর কোম্পানিগুলো ভুটানে ২০০০ কোটি টাকার সৌর প্রকল্পের মতো বড় চুক্তি অর্জন করে।
রিলায়েন্স ডিফেন্স এবং জার্মানির রাইনমেটাল অস্ত্র তৈরিতে কৌশলগত অংশীদারিত্বে আবদ্ধ হয়। এই চুক্তির অধীনে, রিলায়েন্স ডিফেন্স লিমিটেড মহারাষ্ট্রের রত্নগিরির ওয়াটাড শিল্প অঞ্চলে একটি অত্যাধুনিক উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করবে।
অনিল আম্বানির এই পুনরুত্থানের প্রধান কারিগর তাঁর দুই পুত্র, জয় আনমোল আম্বানি এবং জয় আনশুল আম্বানি। কঠিন সময়ে তাঁরা ব্যবসায় যোগদান করে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
আনমোল ও আনশুল রিলায়েন্স গ্রুপের “ভিশন ২০৩০” কৌশল বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও রিলায়েন্স পাওয়ারের মতো মূল ব্যবসার জন্য তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা তাঁরা সফলভাবে রূপায়ণ করেন। প্রেফারেন্সিয়াল ইকুইটি ইস্যুর মাধ্যমে ৪,৫০০ কোটি টাকা, Värde Partners-এর সহযোগিতায় বৈদেশিক মুদ্রা রূপান্তরযোগ্য বন্ডের মাধ্যমে ৭,১০০ কোটি টাকা এবং যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক প্লেসমেন্ট (QIP)-এর মাধ্যমে ৬,০০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেন তাঁরা। এই পদক্ষেপগুলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরায় এবং গ্রুপের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।
জয় আনমোল আম্বানি ২০১৬ সাল থেকে রিলায়েন্স ক্যাপিটালের অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে খুচরা ব্যবসা প্রসারিত হয় এবং গ্রুপের শেয়ারের মূল্য ৪০% বৃদ্ধি পায়।
আম্বানি পরিবার ইতিমধ্যেই তাদের ঋণের বোঝা কমাতে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি, অনিল আম্বানির একটি সংস্থা ১,২৮৬ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধের ঘোষণা করে। গ্রুপের মোট সম্পদের পরিমাণ ২০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন অনিল আম্বানি ও তাঁর পরিবারের অদম্য মনোবল ও দূরদর্শিতার জ্বলন্ত প্রমাণ।