বিশেষ: মাটির নীচে এত বিপুল পরিমাণ সোনা এল কোথা থেকে? জেনেনিন কি বলছে গবেষকরা?

সোনা, সেই প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের কাছে এক অমূল্য ধাতু। এর ঔজ্জ্বল্য আর বিরলতা একে দিয়েছে বিশেষ মর্যাদা, যার সঙ্গে তুলনা করা হয় দামি বা প্রিয় সব কিছুকে। পৃথিবীর গভীর থেকে এই মূল্যবান ধাতু উত্তোলন করা হয়। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, মাটির তলায় এত বিপুল পরিমাণ সোনা এলো কোথা থেকে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীদের চোখ ঘুরেছে শত কোটি বছর আগের পৃথিবীর দিকে।

উল্কাপাত এবং সোনার আগমন
বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর মাটির তলায় সঞ্চিত সোনার উৎস জানতে আমাদের ফিরে যেতে হবে প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে। সেই সময় পৃথিবী সদ্য গঠিত হয়েছিল এবং এর পৃষ্ঠ ছিল উত্তপ্ত ও গলিত অবস্থায়। এই নবীন পৃথিবীর উপর প্রায় ২০ কোটি বছর ধরে একের পর এক গ্রহাণু এবং উল্কাপিণ্ড আছড়ে পড়ছিল। এই উল্কাপিণ্ডগুলোর সঙ্গেই বিপুল পরিমাণ সোনা পৃথিবীতে আসে।

বহির্বিশ্ব থেকে সোনার আমদানি
অর্থাৎ, পৃথিবীতে সোনার আমদানি হয়েছিল বহির্বিশ্ব থেকেই। ওই ২০ কোটি বছর ধরে চলা উল্কাপাতের সময়ই সিংহভাগ সোনা পৃথিবীতে এসে পৌঁছায় এবং তা মাটির গভীরে জমা হতে শুরু করে। ৪০০ কোটি বছর ধরে সেই সোনা মাটির তলায় সুপ্ত অবস্থায় ছিল, যা এখন মানুষ বিভিন্ন খনি থেকে উত্তোলন করে ব্যবহার করছে।

এই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা যে মূল্যবান ধাতুটিকে এত কদর করি, তার উৎস আসলে পৃথিবীরও বাইরে, মহাবিশ্বের এক বিশাল ও প্রাচীন ইতিহাসের অংশ।