“দেশের প্রায় অর্ধেক গাড়ির বিমা নেই”-দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, উদ্বেগে বিমা সংস্থা

ভারতের সড়কগুলিতে চলাচলকারী প্রায় অর্ধেক গাড়ির কোনো বিমা নেই, যা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তি এবং দেশের সামগ্রিক বিমা ব্যবস্থার জন্য এক বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার এই উদ্বেগজনক তথ্য জানিয়েছেন নিউ ইন্ডিয়া অ্যাসিওরেন্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর গিরিজা সুব্রহ্মণ্যম। তার দাবি, গাড়ির বিমা সংক্রান্ত তথ্য হাতে থাকা সত্ত্বেও এই বিষয়ে কার্যকর নজরদারি ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সুব্রহ্মণ্যম বলেন, “দেশের মাত্র ৫২ শতাংশ গাড়ির বিমা করানো রয়েছে। এই তথ্য হাতে থাকা সত্ত্বেও প্রকৃত নজরদারি এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।” তিনি থার্ড পার্টি মোটর ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম বাড়ানোর পক্ষেও সওয়াল করেছেন। তার মতে, মূল্যবৃদ্ধির হার বাড়লেও গত ৫-৬ বছর ধরে থার্ড পার্টি মোটর ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম বাড়ানো হয়নি, যা বিমা সংস্থাগুলির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি থার্ড পার্টি ইন্স্যুরেন্স কভার দেওয়া বাধ্যতামূলক করে। বিমা করানো নেই এমন গাড়ির সংখ্যা কমাতেই সর্বোচ্চ আদালত এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। এরপরে, দেশের বিমা নিয়ামক সংস্থা ইনশিওরেন্স রেগুলেটরি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (আইআরডিএআই) নতুন চারচাকার জন্য তিন বছরের থার্ড পার্টি কভার এবং দু’চাকার জন্য পাঁচ বছরের থার্ড পার্টি কভারের নিয়ম চালু করে। তা সত্ত্বেও, মোট রেজিস্ট্রি হওয়া গাড়ির নিরিখে বিমা করানো গাড়ির সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য ফারাক রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে আইন প্রয়োগে এখনও অনেক ঘাটতি রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নিউ ইন্ডিয়া অ্যাসিওরেন্স দেশের গাড়ি বিমা ক্ষেত্রে নিজেদের উপস্থিতি আরও জোরদার করতে উঠেপড়ে লেগেছে। সংস্থাটি ব্যক্তিগত চারচাকা এবং দু’চাকা বিমার উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। কারণ, বাণিজ্যিক গাড়ির তুলনায় এই ক্ষেত্রে ক্লেমের সংখ্যা অনেক কম।

পাশাপাশি, ডিজিটাল মাধ্যমে নিজেদের প্রসার ঘটাতে রাষ্ট্রায়ত্ত এই বিমা সংস্থা ফোনপে-র মতো প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এছাড়াও, বিমা নিয়ামক পরিচালিত ইনশিওরেন্স মার্কেটপ্লেস ‘বিমা সুগম’-এও বিনিয়োগ করছে নিউ ইন্ডিয়া অ্যাসিওরেন্স, যা দেশের বিমা ব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য করতে সহায়তা করবে। তবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত uninsured গাড়ির সংখ্যা কমানো যাচ্ছে, ততক্ষণ সড়ক দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে জটিলতা থেকেই যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।