“২৫ হাজার টাকার জন্য শিশু বলি?”-আদিবাসী দম্পতির সন্তানের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, গ্রেফতার অভিযুক্ত

মাত্র ২৫ হাজার টাকা ধারের সুদ-আসলের বলি হলো আদিবাসী শ্রমিক দম্পতির এক শিশু সন্তান। অভিযোগ, এই সামান্য টাকা ধার নিয়ে শোধ করতে না পারায় এক খামার মালিক ওই দম্পতির শিশু সন্তানকে খুন করেছে। অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতিতে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ধারের জালে বন্দি আদিবাসী পরিবার
জানা গেছে, আনাকাম্মা ও তার স্বামী চেঞ্চাইয়া নামে এক আদিবাসী দম্পতি তিরুপতিরই এক হাঁস পালনকারীর কাছে কাজ করতেন। আদিবাসী সম্প্রদায়ের হওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবনে অপমান-অত্যাচার ছিল নিত্যসঙ্গী। কিছু ব্যক্তিগত প্রয়োজনে চেঞ্চাইয়া খামার মালিকের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। ধার শোধের নামে বাড়তি খাটাখাটুনি করানো সত্ত্বেও মালিক টাকার জন্য তাদের উপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করত।
স্বামীর মৃত্যু ও অসহায় বিধবার সন্তান বন্ধক
গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো তাদের জীবনে নেমে আসে আকস্মিক দুর্যোগ। চেঞ্চাইয়ার মৃত্যু হলে বিধবা আনাকাম্মা তার তিন সন্তানকে নিয়ে কাজ ছেড়ে চলে যেতে চাইলে ওই খামার মালিক তাকে বাধা দেয়। ধার শোধের অজুহাতে তার সন্তানদেরও জোর করে কাজে লাগিয়ে দেয়। দিনরাত পরিশ্রম করেও মালিকের হিসেবে টাকা শোধ হচ্ছিল না। অভিযোগ, আনাকাম্মা কাজ ছেড়ে যেতে চাইলে তাকে বাধ্য করা হয় এক সন্তানকে বন্ধক রাখার জন্য।
সন্তানের খোঁজে এসে মর্মান্তিক সত্য উন্মোচন
বাধ্য হয়ে আনাকাম্মা তার এক সন্তানকে খামার মালিকের কাছে রেখে বাকি দুই সন্তানকে নিয়ে চলে যান। দ্রুত টাকা জোগাড় করে সন্তানকে ছাড়াতে এসে তিনি জানতে পারেন, তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। প্রথমে খামার মালিক জানায়, শিশুটি জন্ডিসে মারা গেছে। এরপরই নিরুপায় আনাকাম্মা নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশের দ্বারস্থ হন।
বিধবা আনাকাম্মার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ওই ব্যক্তির কাছে পৌঁছয়। প্রাথমিক জেরার মুখেই সে স্বীকার করে যে, অতিরিক্ত কাজ করানোর কারণে নাবালকের মৃত্যু হয়েছে এবং তার মরদেহ মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানে মাটি খুঁড়ে নাবালকের দেহ উদ্ধার করা হয়। এর পরই ওই খামার মালিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি আদিবাসী শ্রমিকদের শোষণ এবং তাদের অসহায়তার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।