আবার কি ২০২০-র মতো ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে করোনা? কি বলছে কেন্দ্র? বিস্তারিত জেনেনিন

ভারতজুড়ে আবারও বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, যা অনেকের মনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বেশ কয়েকটি রাজ্যে নতুন করে রোগী শনাক্ত হচ্ছেন এবং দুইজন করোনা আক্রান্তের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। পশ্চিমবঙ্গেও নতুন করে করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে, করোনা কি আবার তার ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে? সংক্রমণ বাড়লে কি ফের লকডাউনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে? এই সব প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্র কী বলছে, তা জেনে নেওয়া যাক।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ভারতের একাধিক রাজ্যে নতুন করে করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিললেও, অধিকাংশ সংক্রমণই সামান্য প্রকৃতির। রোগীরা বাড়িতে থেকেই সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাই এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে কেন্দ্র জানিয়েছে।

দেশে করোনা সংক্রমণ আবারও বাড়তে শুরু করায়, শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ রিসার্চের সেক্রেটারি, ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের (ICMR) ডিরেক্টর জেনারেলের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মূলত কেরল, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র এবং কর্নাটক থেকেই অধিকাংশ করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলছে। INSACOG-এর তথ্য অনুযায়ী, করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট NB.1.8.1 বাড়ছে। এর পাশাপাশি, ভারতে করোনার LF.7 ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত চারজন রোগীর খোঁজ মিলেছে। তবে, এই সংক্রমণগুলো এখনো সামান্যই থাকছে এবং রোগীরা বাড়িতে থেকেই সুস্থ হয়ে উঠছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হাসপাতালগুলোকে ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত বেড ও অক্সিজেন প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, সিঙ্গাপুর, হংকং সহ একাধিক দেশেও করোনা সংক্রমণ দ্রুত গতিতে বাড়ছে। তবে, এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য মেলেনি যে করোনার এই নতুন ভ্যারিয়েন্টগুলো আগের ভ্যারিয়েন্টগুলির তুলনায় বেশি সংক্রামক বা মারাত্মক। কেন্দ্র সমগ্র পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

ভারতে বর্তমানে করোনার সবথেকে বেশি হওয়া ভ্যারিয়েন্ট হলো JN.1। আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশই এই ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত হয়েছিলেন। এরপরেই রয়েছে ওমিক্রনের সাব-লিনিয়েজ, যা ২০ শতাংশ মানুষের সংক্রমণের কারণ।

সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কেন্দ্র মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহারের উপর আবারও জোর দেওয়া হচ্ছে।