ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তা ভেদ করে সালমান খানের অ্যাপার্টমেন্টে অনুপ্রবেশ, মুম্বই পুলিশে ধৃত ২

ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তা, বুলেটপ্রুফ গাড়ি, রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের সার্বক্ষণিক নজরদারি—এসব ভেদ করেও বলিউড তারকা সালমান খানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে হানা দিল ‘অনুপ্রবেশকারী’রা। সিনেমার পর্দার অ্যাকশন যেন এবার বাস্তবের থ্রিলারের রূপ নিল। টানা দুইদিন ধরে দুজন ‘অতিথি’ গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত মুম্বই পুলিশ দু’জনকেই গ্রেফতার করেছে।
অনুপ্রবেশকারীদের তাণ্ডব
ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন জিতেন্দ্র কুমার সিং (২৩), যিনি ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা, এবং ঈশা ছাবরা (৩২)। মঙ্গলবার সকালে জিতেন্দ্রকে গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের সামনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে সরে যেতে বললে তিনি নিজের মোবাইল ছুড়ে ভেঙে ফেলেন। পরে সন্ধ্যায় ভবনের এক বাসিন্দার গাড়ি চড়ে ভিতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে দ্রুত আটক করে।
এর ঠিক একদিন পর, বুধবার ভোর ৩.৩০টা নাগাদ একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি! এবার মঞ্চে ঈশা ছাবরা। গেট পেরিয়ে সোজা লিফট পর্যন্ত পৌঁছে যান তিনি। ‘খান সাহেব’-এর দরজায় পৌঁছানোর ঠিক আগেই পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দুজনেরই একই কথা—”সালমান খানের সঙ্গে দেখা করতেই এসেছিলাম।” কিন্তু আইন তো বলে ব্যক্তিগত ভালোবাসা মানেই যে ব্যক্তিগত পরিসরে ঢুকে পড়া যায় না!
সালমান খানের Y+ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সালমান খানের বাড়ির সামনে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং গুলি চালিয়ে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। তারপর থেকেই অভিনেতার জন্য ‘Y+’ শ্রেণির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। বাড়ির চারপাশে নজরদারি ক্যামেরা, পুলিশি টহল এবং বিশেষ রক্ষীরা সদা প্রস্তুত থাকেন।
লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনায় তিনি এবং তাঁর গ্যাং সালমানের প্রতি ক্ষুব্ধ। এমনকি এনআইএ-র তালিকায় সালমানকে ‘টার্গেট নম্বর ওয়ান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর সালমান নিজের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে একাধিক নিরাপত্তামূলক সংস্কারও করেন।
গত বছর সালমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও রাজনৈতিক নেতা বাবা সিদ্দিকি গ্যাংস্টারদের গুলিতে প্রাণ হারান। এরপর থেকে সালমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হয়েছে।
নিরাপত্তার কারণে সীমিত জীবন
এক সাম্প্রতিক সাংবাদিক বৈঠকে অভিনেতা নিজেই বলেন, “নিরাপত্তার কারণে জীবনটা সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছে। বাড়ি থেকে শুটিং আর শুটিং থেকে বাড়ি—এই রুটিনেই আটকে গেছি।”
তবে এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে—যেখানে এত কড়া নিরাপত্তা, সেখানেও বারবার কেউ ঢুকে পড়ছে কীভাবে? অনুরাগে অন্ধ হয়ে যদি কেউ আইন লঙ্ঘন করেন, তাহলে তার নাম আর ভক্ত থাকে না—হয়ে ওঠেন ‘প্রত্যাশাহীন প্রবেশকারী’।