ফাঁক দিয়ে গলতে পারলেই খাবারের দামে মিলবে ছাড়, দারুন অফার এই রেস্তোরাঁয়!

ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে রেস্তোরাঁগুলো সাধারণত নানা ধরনের ছাড়ের ঘোষণা করে থাকে। তবে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই শহরের ‘চিয়াং মাই ব্রেকফাস্ট ওয়ার্ল্ড’ (Chiang Mai Breakfast World) নামের একটি রেস্তোরাঁ সেই চেনা পথে না হেঁটে এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছে, যা একইসঙ্গে জনপ্রিয়তা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এই রেস্তোরাঁয় ছাড় পেতে হলে ক্রেতাকে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে!

এই রেস্তোরাঁর সদর দরজাতেই ক্রেতা তাঁর খাবারের দামে কতটা ছাড় পাবেন, তা নিশ্চিত করতে পারেন। রেস্তোরাঁটি তাদের দরজায় রড দিয়ে তৈরি পাঁচটি ফাঁক তৈরি করেছে, যেখান দিয়ে মানুষ ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে এই ফাঁকগুলি একই মাপের নয়; ছোট থেকে ক্রমশ বড় হয়েছে। ক্রেতার শারীরিক গঠন অনুযায়ী তিনি যে ফাঁক গলে ঢুকতে পারবেন, সেই অনুযায়ীই মিলবে ছাড়।

প্রতিটি ফাঁকের ওপরেই ছাড়ের পরিমাণ লেখা আছে – ২০ শতাংশ, ১৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ৫ শতাংশ এবং কোনো ছাড় নেই।

সবচেয়ে ছোট ফাঁকটি দিয়ে ঢুকতে পারলে মিলবে ২০ শতাংশ ছাড়, যা সবচেয়ে বেশি। ফাঁক যত চওড়া হয়েছে, ছাড়ের পরিমাণ তত কমেছে। প্রথম চারটি ফাঁকের কোনোটি দিয়েও যিনি নিজেকে গলাতে পারবেন না, তাঁর জন্য একটি বিশাল ফাঁক রয়েছে। যেকোনো চেহারার মানুষই এই ফাঁক দিয়ে সহজে ঢুকতে পারবেন, কিন্তু সেক্ষেত্রে কোনো ছাড় মিলবে না।

অনেক ক্রেতাই রেস্তোরাঁয় প্রবেশের সময় এই ফাঁকগুলো দিয়ে গলার চেষ্টা করেন এবং অনেকে সফলভাবে ছাড় অর্জনও করেন। স্বাভাবিকভাবেই, খুবই পাতলা চেহারার মানুষ ২০ শতাংশের ফাঁক দিয়ে ঢুকতে পারেন। যিনি যত বেশি স্থূল চেহারার, তাঁর ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা তত কমে যায়।

চিয়াং মাই ব্রেকফাস্ট ওয়ার্ল্ডের এই আজব অফার যেমন ক্রেতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, তেমনই এটি সমালোচিতও হচ্ছে। অনেকের মতে, এই ধরনের অফার মানুষের শারীরিক গঠন নিয়ে পরোক্ষভাবে অপমান বা উপহাসের শামিল। এই কৌশল কি আদতে বিপণনের এক নতুন দিক, নাকি এটি কেবলই বিতর্ক সৃষ্টির মাধ্যম? আপনার কী মনে হয়?