মাটির ডালা এক নিমেষেই পরিণত হল শিব ঠাকুরে! আজব ‘খেলা’ দেখাচ্ছিল দুই সাধু, সত্যিটা সামনে আসতেই…

“অযোধ্যা থেকে এসেছি। পরিবারের মঙ্গলের জন্য দোয়া করব। প্রণামি দাও।” এই বলেই বাড়ির সামনে হাজির হয়েছিলেন দুই ‘সাধু’। বুধবার সকালে দাসপুর থানার গুডল্লি গ্রামের মণ্ডল বাড়ির সামনে ঘটে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
আদিত্য মণ্ডলের স্ত্রী রুমা দেবী সামান্য কিছু প্রণামী হাতে মুঠো করে সাধু বাবাকে দেন। এরপরই শুরু হয় ভেল্কিবাজি। সাধুবাবা গৃহবধূর হাতের মুঠোয় একটি মাটির ডালা রেখে দেন। মুঠো খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ রুমা দেবীর – মাটির ডালা পরিণত হয়েছে শিব ঠাকুরের মূর্তিতে! এই ‘চমৎকার’ দেখে রুমা দেবী আরও কিছু টাকা দেন, আর তাঁর হাতের মুঠোয় আসে চকচকে পাথর। এভাবেই কয়েক হাজার টাকা সাধুদের হাতে তুলে দেন তিনি, মনে মনে ভাবেন যে আশীর্বাদ পেয়েছেন।
প্রতারণা ফাঁস, গ্রামবাসীদের ক্ষোভ:
কিন্তু গল্পের মোড় ঘুরে যায় কিছুক্ষণের মধ্যেই। দুই ‘সাধু’ তখনও গ্রামেই ঘোরাঘুরি করছিলেন। বেশ কয়েকজন যুবক তাঁদের ধরে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তখনই বেরিয়ে আসে আসল সত্য। অভিযোগ ওঠে, ওই পাড়ারই এক মহিলার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন এই দুই ‘সাধু’। শুধু তাই নয়, পাড়ার আরও বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে একই কায়দায় টাকা তুলেছেন তাঁরা। কারও কাছ থেকে ৫০০ টাকা, আবার কারও কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। একে একে অভিযোগগুলো সামনে আসতেই দুই ‘সাধু’র প্রতারণার কৌশল প্রকাশ্যে আসে।
পুলিশি তৎপরতা ও চাঞ্চল্য:
ঘটনার পর দ্রুত দাসপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দাসপুর থানার পুলিশ। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে দুই ‘সাধু’কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। গ্রামে এমন ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় ভক্তির সুযোগ নিয়ে এমন প্রতারণার ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।