“পৃথিবীতে আমরাই প্রথম….”, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বিরাট ঘোষণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় প্রকল্প “লক্ষ্মীর ভান্ডার” নিয়ে আবারও সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার উত্তরবঙ্গের ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ীর এক মঞ্চ থেকে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি জোর গলায় দাবি করেন, এই প্রকল্প শুধু भारतात নয়, গোটা পৃথিবীতেই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সরকার চালু করেছে। একইসঙ্গে তিনি आश्वासन দেন, এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সারাজীবন ধরে চলবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য শুধুমাত্র প্রকল্পের সাফল্যকেই নয়, রাজ্য রাজনীতিতেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে “লক্ষ্মীর ভান্ডার” প্রকল্পের সূচনা করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে, এই প্রকল্পের আওতায় সাধারণ শ্রেণীর মহিলারা মাসিক ৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১০০০ টাকা করে পেতেন। পরবর্তীকালে, মুখ্যমন্ত্রী এই ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করেন। প্রথমে সাধারণ মহিলাদের জন্য ১০০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতির মহিলাদের জন্য ১২০০ টাকা করা হয়। বর্তমানে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ শ্রেণীর মহিলারা মাসিক ১২০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি শ্রেণীর মহিলারা ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।
এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প আমরাই প্রথম শুরু করেছি। এখন অনেকেই এটা দেখে অনুসরণ করছে।” তাঁর দাবি, এই প্রকল্প শুধুমাত্র ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলির কাছেই নয়, বিদেশের অনেক সরকারের কাছেও একটি “রোল মডেল” হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। সম্প্রতি দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনেও লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের আদলে প্রকল্প রূপায়ণের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বলে জানা যায়।
মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য একাধিক নতুন প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করেন। তবে, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের সাফল্য এবং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যই ছিল এদিনের ভাষণের মূল আকর্ষণ।
যদিও, এই জনমোহিনী প্রকল্প নিয়ে “খয়রাতির রাজনীতি”র অভিযোগও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এমনকি, এই ধরণের প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এবং স্বচ্ছতা নিয়ে আদালতেরও পর্যবেক্ষণ রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে, সমস্ত সমালোচনাকে পাশে সরিয়ে রেখে রাজ্য সরকার যে এই প্রকল্প চালিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর, মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের বক্তব্য থেকে তা আরও একবার স্পষ্ট হল। “লক্ষ্মীর ভান্ডার” রাজ্যের মহিলাদের কাছে যে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, তা অনস্বীকার্য এবং এই প্রকল্পের রাজনৈতিক প্রভাবও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।