তৃণমূল নেতাদের জেলযাত্রা! একদিনে রাজ্যে ধৃত একাধিক প্রভাবশালী নেতা, কী কী অভিযোগ?

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই যেন শুরু হয়েছে তৃণমূল নেতাদের ধরপাকড়ের মহোৎসব। খুনের চেষ্টা, নাবালিকা নির্যাতন, সরকারি ত্রাণ চুরি থেকে শুরু করে জাল সার্টিফিকেট—তৃণমূলের দাপুটে নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগে উত্তাল রাজ্য। শনিবার সারা দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

এক নজরে আজকের গ্রেফতারের তালিকা:

নাবালিকা নির্যাতন ও খুনের চেষ্টা: নাবালিকা নির্যাতনের পুরনো মামলায় পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ের তৃণমূল নেতা লক্ষ্মী শিটকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মকরামপুর অঞ্চলের এই তৃণমূল সভাপতির বিরুদ্ধে অতীতে খুনের চেষ্টারও অভিযোগ রয়েছে।

ত্রাণ ও সরকারি সামগ্রী চুরি: ত্রাণ সামগ্রী চুরির অভিযোগে তোলপাড় চলছে নদিয়া ও বারুইপুরে। নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর বাড়ির পাশের ক্লাবে সরকারি ত্রাণ লুকোনো থাকার অভিযোগে। পুলিশের গাড়িতে ওঠার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো ও জলের বোতল ছোড়েন ক্ষুব্ধ জনতা। একইভাবে বারুইপুর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সুধাংশু নস্কর ও জয়নগরের চার তৃণমূল সদস্যকে সরকারি ত্রিপল, কম্বল ও কৃষি সরঞ্জাম চুরির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মাছ চুরিতে কাউন্সিলর: রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বরুণ সরকারকে একটি ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রাই তাঁকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

জাল সার্টিফিকেট কাণ্ড: বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ প্রসেনজিৎ ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, জাল এসসি (SC) সার্টিফিকেট বানিয়ে প্রভাব খাটিয়ে স্ত্রীকে পঞ্চায়েত প্রধানের আসনে বসিয়েছিলেন তিনি। হাইকোর্টের নির্দেশে এসডিও-র তদন্তের পরই এই পদক্ষেপ।

বোমাবাজিতে নাম: আমডাঙা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রফিকুর রহমানের ভাই আনিসুর রহমান গ্রেফতার হয়েছেন ২০২৪ সালের বোমাবাজির মামলায়। সুপ্রিম কোর্টে জামিন খারিজ হওয়ার পরই পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিল।

চাকরি বিক্রির অভিযোগ: মহিষাদলের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি ছবিলাল মাইতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা তোলার অভিযোগে। তিনি প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তিলক চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

অস্থির টলিপাড়া ও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা:
একের পর এক নেতার গ্রেফতারিতে তৃণমূলের অন্দরমহলে যেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তেমনি বিরোধীরা দাবি করেছে এটিই প্রকৃত দুর্নীতির মুখোশ উন্মোচন। পুলিশের এই বিশেষ সক্রিয়তা এবং নতুন সরকারের ধড়পাকড় অভিযান যে আগামী দিনে আরও বেগ পেতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। ধৃতদের আজ আদালতে পেশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।