উত্তম-সৌমিত্র নন, চিন্ময় রায়ই সায়রা বানুর বিপরীতে ‘সাগিনা মাহাতো’-তে! কী ঘটেছিল সেটে?

সত্তরের দশকে তপন সিনহা যখন ‘সাগিনা মাহাতো’ তৈরি করছিলেন, তখন তা গোটা ইন্ডাস্ট্রিতে হইচই ফেলে দিয়েছিল। ছবিতে নায়ক ছিলেন দিলীপ কুমার, আর নায়িকা সায়রা বানু। বাংলা ছবিতে দিলীপ-সায়রা জুটি, তার উপর কারখানার ট্রেড ইউনিয়ন রাজনীতি নিয়ে ছবির গল্প – সব মিলিয়ে ছবিটি ঘিরে ছিল ব্যাপক আলোচনা। বিতর্কেও জড়িয়েছিল ‘সাগিনা মাহাতো’। তবে এই ছবির শুটিংয়ের সময় বেশ কিছু মজার ঘটনাও ঘটেছিল, বিশেষ করে সায়রা বানু এবং চিন্ময় রায়কে কেন্দ্র করে। পরিচালক তপন সিনহা নিজেই ছিলেন বহু মজার ঘটনার সাক্ষী।

তপন সিনহার কাছ থেকে চিত্রনাট্য শোনার পরেই সায়রা বানু ‘সাগিনা মাহাতো’ ছবিতে কাজ করতে রাজি হয়ে যান। এটি ছিল তার প্রথম বাংলা ছবি। এর উপর, সায়রা ছিলেন উত্তম কুমার ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের দারুণ ভক্ত। সায়রা প্রথমে ভেবেছিলেন, ছবিতে হয়তো উত্তম বা সৌমিত্রই তার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করবেন। মনে মনে এমনটাই আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার সব আশায় জল ঢেলে দেন চিন্ময় রায়। শোনা যায়, তপন সিনহা নাকি সৌমিত্র ও উত্তমের কাছেও গিয়েছিলেন ‘সাগিনা মাহাতো’ ছবির জন্য। তবে সেই সময় বাংলার এই দুই কিংবদন্তি অভিনেতা ব্যস্ততার কারণে তপন সিনহাকে ডেট দিতে পারেননি।

ছবির শুটিংয়ের জন্য দিলীপ কুমার, সায়রা বানু এবং চিন্ময় রায় উত্তরবঙ্গে উড়ে যান। ততদিনে সায়রা জেনে গিয়েছিলেন যে, উত্তম বা সৌমিত্র নন, চিন্ময়ই ‘সাগিনা মাহাতো’ ছবিতে তার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করবেন। সায়রা অবশ্য চিন্ময়কে চিনতেন না। তাই তপন সিনহা শুটিং শুরুর আগে চিন্ময়ের সঙ্গে সায়রার পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। সায়রার অনুরোধ মেনে তপন সিনহা, চিন্ময়কে নিয়ে গেলেন তার কাছে। চিন্ময়কে প্রথমবার দেখে সায়রা তো হতবাক! রোগা-পাতলা চেহারার এই মানুষটা তার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করবেন! প্রথমটা যেন বিশ্বাসই করতে পারেননি সায়রা।

পরে অবশ্য চিন্ময়ের অভিনয় দেখে সায়রা মুগ্ধ হয়ে যান। তিনি আপ্লুত হয়ে চিন্ময়কে বলেছিলেন, “চিন্ময় তুমি দারুণ অভিনেতা!” শোনা যায়, শুটিংয়ের ফাঁকে নাকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা চিন্ময়ের সঙ্গে আড্ডা দিতেন সায়রা। আর অন্যদিকে, বলিউড সুন্দরী সায়রাকে দেখে চিন্ময়ের মনও পাগলপাড়া হয়ে গিয়েছিল। শোনা যায়, চিন্ময় রায় নাকি সায়রাকে পাহাড় থেকে কেনা একটি বিশেষ গয়নাও উপহার দিয়েছিলেন।