কেউ গাড়িতে, কেউ সাইকেলে – এবার পায়ে হেটে কেদার বাবার দরবারে ছুটছেন অসমের তাপস

কেদারনাথ যাত্রার জন্য মানুষ নানা পথ বেছে নেন – গাড়ি, সাইকেল, এমনকি হেলিকপ্টারও। কিন্তু সুদূর আসাম থেকে পায়ে হেঁটে ভোলানাথের দর্শন পেতে বেরিয়েছেন এক যুবক, তাপস বৈশ্য। আসামের নলবাড়ি সংলগ্ন এলাকার এই যুবকের অবিশ্বাস্য পদযাত্রা ১৮ দিন অতিক্রম করে এখন জলপাইগুড়িতে এসে পৌঁছেছে, যা সকলের মনে বিস্ময় ও শ্রদ্ধা জাগিয়েছে।
তাপস বৈশ্য বিশ্বাস করেন, তীর্থযাত্রায় বা ভগবানের দর্শন পেতে অর্থ কখনওই বাধা হতে পারে না। কেদারনাথ মন্দিরের দ্বার খোলার পর যখন ভক্তদের ঢল নেমেছে, তখন গুয়াহাটি থেকে বিশ্বশান্তি ও ভালোবাসার এক গভীর বার্তা নিয়ে তিনি তাঁর এই দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু করেছেন।
তাপসের কথায়, “আজ গোটা বিশ্বজুড়ে চলছে হানাহানি, যুদ্ধ আর বিভেদ। আমি চাই সকলে মিলে একত্রে বসবাস করি, ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক মানুষের মধ্যে।” তাঁর এই যাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হল, ভারতীয় সৈনিকদের জন্য প্রার্থনা করা। তিনি মনে করেন, দেশের সীমান্তে যাঁরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহারা দেন, তাঁদের সুরক্ষার জন্য ঈশ্বরের আশীর্বাদ প্রয়োজন। তাই বাবা ভোলেনাথের চরণে পৌঁছে দেশের শান্তি ও সৈনিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা জানাবেন তিনি।
তাপসের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে যাত্রাপথে বহু মানুষ তাঁর পাশে দাঁড়াচ্ছেন। কেউ খাবার দিচ্ছেন, কেউ দিচ্ছেন আশ্রয়। সাধারণ মানুষের একাংশ তাঁর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, “এমন উদ্যোগ সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যায়। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে কেউ যদি শুধুমাত্র শান্তির জন্য হাঁটে, তবে সেটা আমাদের সমাজের পক্ষে এক বড় বার্তা।”
আগামী দু’মাসের মধ্যে তাপস কেদারনাথ পৌঁছে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই যুবকের সফর কেবল একটি ধর্মীয় তীর্থযাত্রা নয়, এটি এক মানবিক অভিযাত্রা। তাঁর লক্ষ্য অর্জনের পথটা হয়তো কঠিন, কিন্তু মনের অদম্য জোরে এগিয়ে চলেছে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ, যা অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে অসংখ্য মানুষকে।