প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলা, বিচারপতির তীব্র বাদানুবাদ, ফের শুনানি জুনে

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ বাতিল সংক্রান্ত মামলার শুনানি মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়। এদিন রাজ্য সরকারের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং একক বেঞ্চের বিচারপতির ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে আদালতে তীব্র বাদানুবাদ হয়।
এজি কিশোর দত্ত আদালতে জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১.২৫ লক্ষ নিয়োগপ্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন এবং ৪২,০০০ বেশি শূন্যপদে ৪৯,০০০-এরও বেশি প্রার্থী নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এত বড় মাপের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেখানে লক্ষ লক্ষ নিয়োগপ্রার্থী জড়িত, সেখানে একক বেঞ্চের হস্তক্ষেপের সুযোগ কোথায়?” একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, একক বেঞ্চের বিচারপতি নিজেই কৌঁসুলি হয়ে মামলায় কাজ করেছেন।
এর জবাবে বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী বলেন, “ইন্টারভিউ ইস্যু যদি ধরেন, তাহলে একজন মামলাকারী কী করে বুঝবেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ কী করেছে? পর্ষদ বোর্ড মিটিংয়ে কী করেছে? কাদের নিয়োগ করেছে? মামলাকারী আদালতে অভিযোগ নিয়ে এসেছে নিয়োগে অনিয়ম বা দুর্নীতির। তার স্বপক্ষে সে কিছু প্রমাণ দিয়েছে আদালতে। তার পক্ষে জানা সম্ভব নয় কোথায় কী হচ্ছে।”
বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী আরও জানতে চান, নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে পর্ষদ কী কী নির্ভরযোগ্য পদক্ষেপ করেছে? এর উত্তরে কিশোর দত্ত বলেন, “কয়েকজনের বক্তব্যের ভিত্তিতে সবটাই বেআইনি বলা যায় না। দুর্নীতির বিষয়ে আসা যাক। আবেদনকারীরা জানিয়েছে, বেআইনিভাবে নিয়োগ হয়েছে, তাঁরা এর শিকার। তাঁদের সঙ্গে পর্ষদ দ্বিচারিতা করছে। তাঁদের অপ্রশিক্ষিত বলে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।”
সওয়াল জবাবে কিশোর দত্ত আরও বলেন, “ইন্টারভিউ ও অ্যাপটিটিউড টেস্টে নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল একক বেঞ্চের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলায় একজন বিচারপতি কীভাবে নিজের ধারণা প্রতিফলন করতে পারে। দুর্নীতির ক্ষেত্রে প্রমাণ পেশ করতে হয়।”
দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ঘোষণা করে। আগামী ১২ এবং ১৩ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই মামলায় উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত লাখ লাখ নিয়োগপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।