কবে থেকে বকেয়া DA পাবেন সরকারি কর্মীরা? কোন কোন প্রকল্প বন্ধ হল রাজ্যে? জানুন বিস্তারিত

পশ্চিমবঙ্গের লক্ষাধিক রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেছে। শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্য সরকারকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে কর্মীদের ২৫ শতাংশ বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance বা DA) পরিশোধ করতে হবে। এই রায় একদিকে যেমন সরকারি কর্মীদের মধ্যে আশার আলো জ্বালিয়েছে, তেমনি রাজ্য সরকারের উপর এক বিরাট আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মেটাতে গেলে রাজ্য সরকারের চলমান জনপ্রিয় প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে?
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, যদি এই পরিমাণ টাকা মেটাতে হয়, তবে রাজ্যের কোষাগার প্রায় শূন্য হয়ে যেতে পারে। এর ফলে বর্তমানে চালু থাকা অনেক সরকারি প্রকল্প বন্ধ করে দিতে হবে অথবা সেগুলোর বরাদ্দ কমাতে হবে। বলা হচ্ছে, এই মুহূর্তে রাজ্য সরকারের পক্ষে সমস্ত সরকারি প্রকল্পের টাকা দেওয়া এবং একই সঙ্গে ডিএ প্রদান করা কার্যত অসম্ভব।
আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ: সময়সীমার মধ্যে বকেয়া পরিশোধ বাধ্যতামূলক
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার আর এই ইস্যুতে কোনো ধরনের টালবাহানা করতে পারবে না। প্রায় আট বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে এই রায় সরকারি কর্মীদের ন্যায্য প্রাপ্তির পথ খুলে দিয়েছে। অতীতে ডিএ ইস্যুতে রাজ্য সরকার নানা অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করলেও, এবার আদালতের কড়া নির্দেশে আর সেসব চলবে না বলেই কর্মীরা আশাবাদী।
কর্মীদের মধ্যে আশা, তবে শঙ্কাও বিদ্যমান
সরকারি কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই তাদের প্রাপ্য বকেয়া মহার্ঘ ভাতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। আদালতের নির্দেশের পর কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি এলেও, অনেকেই মনে করছেন, রাজ্য সরকার আবারও নানা প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করে এই প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটাতে পারে। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, “বিচারাধীন বিষয়ের ওপর মন্তব্য করব না, আমরা আইন মেনে চলব”—এই মন্তব্য কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। যদিও ‘আইন মেনে চলা’র কথা বলা হয়েছে, তার বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
রাজ্যের প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
লক্ষ্মীর ভান্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় প্রকল্প রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে পরিচালিত হয়। যদি ডিএ বাবদ বিপুল অঙ্কের অর্থ মেটাতে হয়, তাহলে এই প্রকল্পগুলোর উপর সরাসরি আর্থিক চাপ পড়বে। এই পরিস্থিতিতে সরকার কোন খাতে কাটছাঁট করবে বা আদৌ কোনো প্রকল্প বন্ধ করে দেবে কিনা, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকার কিভাবে এই আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আদালতের নির্দেশ পালন করবে এবং একই সাথে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো চালু রাখবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।