OMG! বাসের ধাক্কায় দুমড়ে গেল মারুতি গাড়ি, ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় মৃত ৫

নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর-করিমপুর রাজ্য সড়কে মঙ্গলবার সকালে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। মহিষবাথান মাঠের কাছে একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস একটি মারুতি গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দিলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ধাক্কার তীব্রতায় গাড়িটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৭টা নাগাদ একটি মারুতি গাড়ি ৬ জন যাত্রী নিয়ে কলকাতার দিকে যাচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাচ্ছিলেন। সেই সময় পিছন থেকে আসা একটি বেসরকারি বাস মারুতি গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কা খেয়ে মারুতি গাড়িটি রাস্তার পাশে একটি বিরাট গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষ এতটাই তীব্র ছিল যে, বাস এবং গাছের মাঝে চাপা পড়ে মারুতি গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গাড়ির ভেতরে থাকা ছয়জন যাত্রীর কেউই বের হতে পারেননি এবং ঘটনাস্থলেই ৫ জনের মৃত্যু হয় বলে অনুমান করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং প্রাথমিকভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে করিমপুর থানার পুলিশ এবং দমকলের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয় এবং বাসটিকে সরিয়ে মারুতি গাড়ির ভেতর থেকে দেহগুলো বের করার চেষ্টা চলছে। এখনও পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, বাসটির গতি অত্যন্ত বেশি ছিল এবং চালকের নিয়ন্ত্রণ ছিল না। দুর্ঘটনার সময় বাসের ভেতরে থাকা কয়েকজন যাত্রীও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাস চালক কি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন? নাকি গাড়ি চালাতে চালাতে তাঁর ঘুম চলে এসেছিল? পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। মৃতদের নাম ও পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নদিয়ার এই ভয়ানক দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত গতিতে বাস চলাচলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনের কাছে এই রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কড়া নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।