OMG! দুই শিশুকে বুকে আঁকড়ে আগুনে ঝলসে গেলেন মা, শোকে কাঁদছে পরিবার

তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দ্রাবাদে চারমিনারের কাছে একটি বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৮ জন শিশু রয়েছে। রবিবার সকালে ‘গুলজ়ার হজ়’ নামের ওই বহুতলে আগুন লাগে এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুন লেগেছিল। ঘিঞ্জি পরিবেশ, সরু রাস্তা এবং বাড়ির গঠন উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

চারমিনার–লাগোয়া ‘গুলজ়ার হজ়’ নামের এই বাড়িটির নীচে একাধিক গয়নার দোকান ছিল, যার বেশিরভাগই ১০০ বছর বা তার বেশি পুরোনো। বাড়িটির উপরতলায় থাকত এক বা একাধিক পরিবার। রবিবার সকালে যখন আগুন লাগে, তখন সকলে ঘুমোচ্ছিলেন। ঘরের মধ্যে এসি চলছিল এবং জানলাও বন্ধ ছিল। এর ফলে আগুন এবং ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভিতরে আটকে পড়া মানুষের ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।

এই অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত দমকল ও পুলিশ ১৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। নিহত সকলেই একই পরিবারের সদস্য। মৃতদের মধ্যে ৮ জন শিশু — যাদের বয়স মাত্র ১ বছর থেকে ৯ বছরের মধ্যে। এছাড়া ৫ জন মহিলা এবং ৪ জন প্রৌঢ় ও বয়স্ক পুরুষ মারা গেছেন। গুরুতর অবস্থায় এখনও অনেকে হাসপাতালে ভর্তি।

ওই মর্মান্তিক দৃশ্য চোখের সামনে দেখেছেন জ়াহির নামের এক প্রতিবেশী, যার চুড়ির দোকান রয়েছে ওই বাড়ির নীচেই। জ়াহির বলেন, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তারা দৌড়দৌড়ি শুরু করেন এবং বাইরে বেরিয়ে আসেন। কিছু ক্ষণ পর আবার ভিতরে যান। আগুনের শিখা ক্রমশ দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছিল। তখনই চোখ যায় ঘরের মধ্যে। দেখেন এক মা তার দুই শিশু সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে রয়েছেন বাঁচার শেষ চেষ্টায়। জ়াহির ও অন্যরা চিৎকার করেন, কিন্তু ওই অসম্ভব সরু জায়গা দিয়ে তাদের কাছে পৌঁছতে পারেননি। চোখের সামনে তিনটে প্রাণ ঝলসে শেষ হয়ে গেল।

দমকল–পুলিশ আসার বহু আগেই ভিতরে আটকে পড়া মানুষজনকে উদ্ধার করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন প্রতিবেশীরা। তাঁদেরই একজন জ়াহির। জ়াহিরের কথায়, আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে ভিতরে ঢোকা সহজ ছিল না। ধোঁয়ার কারণে কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। শেষে একটি দেওয়াল ভেঙে তারা ভিতরে ঢুকতে পারেন এবং ১৩ জনকে বাইরে বার করে আনতে সক্ষম হন।

তেলেঙ্গানার দুর্যোগ মোকাবিলা এবং অগ্নিনির্বাপণ পরিষেবার ডিজি ওয়াই নাগি রেড্ডি জানান, সকাল ৬টা ১৬ মিনিট নাগাদ দমকল প্রথম আগুন লাগার খবর পায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ১১টি ইঞ্জিন পাঠানো হয় ঘটনাস্থলে।

তবে উদ্ধারকাজের সময়ে দমকলকর্মীদেরও যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। এক দমকল কর্তার কথায়, ওই বহুতলের ঢোকা-বেরোনোর পথ মাত্র একটি এবং সেটি চওড়ায় ছিল মাত্র দুই মিটার। উপরের ওঠার সিঁড়িও খুব সংকীর্ণ ছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, বাড়িটির ভিতরের অংশ অত্যন্ত ঘিঞ্জি। প্রথম দু’টি তলায় ওঠার জায়গা মাত্র দু’মিটার চওড়া, আর তার উপরের তলগুলো আরও সঙ্কীর্ণ। এসি চালানো ছিল বলে সব জানলাও বন্ধ ছিল। ফলে দমকলকে ভিতরে ঢুকতে এবং আটকে পড়া মানুষকে বার করে আনতে যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হয়। উদ্ধারকাজের সময়ে ঘন ধোঁয়ার কারণে দমকলকর্মীদের অক্সিজেন মাস্ক ব্যবহার করতে হয়।

আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেখানে তেলেঙ্গানা সরকারের দুই মন্ত্রী ঘটনাস্থলে যান। হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন এবং বলেন, “যে ঘিঞ্জি ভাবে এখানে দোকান ও তার উপরে বাড়িগুলো রয়েছে, সেটা ভয়ানক। যে কোনও সময়েই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে। সেটা এখানে যাঁরা থাকেন ও ব্যবসা করেন, তা বুঝতে হবে।”

এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকার পুরানো এবং ঘিঞ্জি বাড়িগুলির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।