টিটাগড়ে ফাঁকা ফ্ল্যাটে বিকট বিস্ফোরণ, TMC-কাউন্সিলরের ফ্ল্যাট ঘিরে রহস্য

উত্তর চব্বিশ পরগনার টিটাগড়ে সাতসকালে একটি আবাসনে তীব্র বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বাঁশবাগান এলাকায় এই ঘটনায় বহুতলের একাংশের দেওয়াল ভেঙে পড়েছে এবং পাশের বাড়ির ছাদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াড। প্রাথমিক তদন্তে বোমা বিস্ফোরণের সন্দেহ করা হচ্ছে। যে ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তার সঙ্গে স্থানীয় এক তৃণমূল কাউন্সিলরের নাম জড়ানোয় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
টিটাগড়ের বাঁশবাগান এলাকায় সোমবার সকালে এই তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ওই বহুতলের পাঁচতলার একটি ঘরের দেওয়াল ভেঙে পাশের টালির ছাদ উড়ে যায়। বিস্ফোরণস্থলের ঘর থেকে এখনও বারুদের তীব্র গন্ধ বের হচ্ছে বলে জানা গেছে। দিনের শুরুতেই এমন ঘটনায় গোটা ঘন জনবসতিপূর্ণ বাঁশবাগান এলাকায় প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় টিটাগড় থানার পুলিশ এবং বম্ব স্কোয়াড। কী থেকে এত বড় বিস্ফোরণ ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বহুতলটি খালি করে দেওয়া হয়েছে। তবে ভাগ্যক্রমে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর নেই। তদন্তকারীদের ধারণা, বিস্ফোরণের সময়ে ফ্ল্যাটটি ফাঁকা থাকায় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিস্ফোরণ ঘটেছে ওই আবাসনেরই পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাটে। যদিও ওই আবাসনেরই চারতলায় থাকেন টিটাগড় পুরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর আরমান মণ্ডল। ওই পাঁচতলার ফ্ল্যাটটি নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। প্রোমোটার বিস্ফোরক দাবি করেছেন যে নির্বাচনের সময় তিনি কাউন্সিলর আরমান মণ্ডলকে ফ্ল্যাটটি ব্যবহারের জন্য দিয়েছিলেন, কিন্তু তারপর তিনি আর ফেরত দেননি এবং জবরদখল করে রেখেছেন। বর্তমানে ফ্ল্যাটটি ফাঁকাই পড়েছিল বলে প্রোমোটারের দাবি।
অন্যদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ফ্ল্যাটের শৌচাগারে বোমা মজুত করা ছিল এবং সেটি ফেটেই এই বিস্ফোরণ হয়।
এই অভিযোগের জবাবে তৃণমূল কাউন্সিলর আরমান মণ্ডল দাবি করেছেন, তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। তিনি নিজেও বিস্ফোরণের ঘটনায় ভীত বলে জানান। কাউন্সিলরের দাবি, ওই ফ্ল্যাটের দরজায় কোনও তালা ছিল না, ফলে যে কেউ সেখানে ঢুকতে পারত।
টিটাগড় থানার পুলিশ কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটল, তার তদন্ত শুরু করেছে। ফরেন্সিক পরীক্ষারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ওই ঘরে একটি ক্যারাম বোর্ড পাওয়া গেছে, যা দেখে মনে করা হচ্ছে সেখানে নিয়মিত কেউ থাকত না, বরং আড্ডা বা ক্যারাম খেলা চলত। ফাঁকা ঘরে কি মজুত থাকা বোমা ফেটেই এই বিস্ফোরণ? নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ আছে? পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল কাউন্সিলর আরমান মণ্ডলের কোনও যোগ আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আবাসনের পূর্বতন মালিক এই ঘটনাকে ‘ভয়ঙ্কর’ আখ্যা দিয়ে দ্রুত দোষীদের খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন।