বিশেষ: শিবের বিশেষ কৃপা থাকে ৪ রাশির ওপর, মহাদেবের আশীর্বাদে কেঁটে যায় সব বাধা-বিপত্তি

এই পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা এবং সংহারকর্তা রূপে পূজিত হয়ে থাকেন মহাদেব বা ভগবান শিব। সনাতন ধর্মে তিনি আদি দেব নামে পরিচিত। সপ্তাহের সোমবার দিনটিকে বিশেষ করে ভগবান শিবের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাদেব খুব অল্পেতেই সন্তুষ্ট হন এবং ভক্তের আন্তরিক ভক্তি দেখে তাঁর সব ইচ্ছাই পূরণ করেন। মহাদেবের কৃপা দৃষ্টিতে ভক্তের জীবনের সমস্ত বাধা দূর হয়ে যায়। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, জন্মছকের রাশিচক্রের ১২টি রাশির ওপরই ভগবান শিবের কমবেশি কৃপা বা আশীর্বাদ থাকলেও, কিছু বিশেষ রাশির ওপর তাঁর বাড়তি কৃপাদৃষ্টি সর্বদাই বজায় থাকে। আসুন দেখে নিই জ্যোতিষ মতে শিবের প্রিয় রাশি কারা এবং এর নেপথ্যে কারণ কী।
কথিত আছে, ভোলানাথ অত্যন্ত দয়ালু এবং তাঁর ভক্তকে তিনি কখনও খালি হাতে ফেরান না। মন থেকে তাঁকে ডাকলে তিনি দ্রুত সাড়া দেন। সামান্য উপাচারে, যেমন শুধুমাত্র এক লোটা জলেই তিনি তুষ্ট হন এবং ভক্তকে সমস্ত বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেন। তাই বহু মানুষ নিজেদের জীবনের সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সমস্ত বাধা কাটানোর জন্য মহাদেবের পুজো ও আরাধনা করে থাকেন।
জ্যোতিষশাস্ত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কিছু রাশি স্বভাবগতভাবে শিবের আশীর্বাদ বেশি পেয়ে থাকে। এই রাশিগুলি হলো:
-
মেষ রাশি (Aries): জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, মেষ রাশির অধিপতি হলেন উগ্র স্বভাবের মঙ্গল গ্রহ। হিন্দু পুরাণ ও বিশ্বাস অনুযায়ী, মঙ্গলকে ভগবান শিবের অংশ বা তাঁর দ্বারা সৃষ্ট বলে মনে করা হয়। এই গভীর সংযোগের কারণেই মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের ওপর শিবের বিশেষ কৃপা দৃষ্টি সর্বদা বজায় থাকে। সোমবার মেষ রাশির জাতকরা যদি নিষ্ঠা ভরে শিবের পুজো করেন এবং শিবলিঙ্গে নিয়ম মেনে জল বা দুধের অভিষেক করেন, তাহলে তাঁদের জীবনের সমস্ত কষ্ট ও বাধা দূর হয়। মহাদেবের আশীর্বাদে তাঁরা সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরা জীবনযাপন করতে পারেন। সাধারণত তাঁদের জীবনে বড় কোনো অর্থাভাব বা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না, আর যদি সমস্যা দেখা দেয়ও, তবে ভোলানাথের কৃপায় তার দ্রুত সমাধান হয়ে যায়।
-
বৃশ্চিক রাশি (Scorpio): জ্যোতিষ অনুযায়ী বৃশ্চিক রাশির অধিপতিও হলেন মঙ্গল গ্রহ। মেষ রাশির মতো বৃশ্চিক রাশির জাতক-জাতিকাদের ওপরও ভগবান শিবের বিশেষ আশীর্বাদ থাকে। এই রাশির জাতকরা প্রতি সোমবার যদি পবিত্র মনে শিবলিঙ্গে এক লোটা জল নিবেদন করে ভোলানাথের আরাধনা করেন, তাহলে তাঁরা তাঁর অপার আশীর্বাদ লাভ করেন। শিবের কৃপায় ভক্তের সমস্ত কষ্ট দূর হয় এবং সমস্ত ধরনের ভয় বা ভীতি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বৃশ্চিক রাশির জাতকরা জীবনে প্রচুর সাফল্য লাভ করেন এবং বড় কোনো সমস্যা বা অভাব তাঁদের ঘিরে ধরতে পারে না।
-
মকর রাশি (Capricorn): শিবের প্রিয় রাশির মধ্যে অন্যতম হলো মকর রাশি। এই রাশির অধিপতি হলেন ন্যায়বিচারক শনি দেব। জ্যোতিষ বিশ্বাস অনুযায়ী, শনি হলেন ভগবান শিবের অত্যন্ত প্রিয় ভক্ত এবং তিনি মহাদেবকে নিজের গুরু জ্ঞানে আরাধনা করেন। গুরুভক্তির কারণে মকর রাশির জাতক-জাতিকাদের ওপর শিবের বিশেষ আশীর্বাদ সর্বদা বর্তমান থাকে। এই রাশির জাতকরা সোমবার নিষ্ঠা ভরে শিবলিঙ্গে বেলপাতা, গঙ্গাজল এবং গোরুর দুধ অর্পণ করে পুজো করলে শিব দ্রুত তুষ্ট হন এবং তাঁদের সমস্ত কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পাশাপাশি তাঁদের সমস্ত কাজে সাফল্য লাভ সম্ভব হয়।
-
কুম্ভ রাশি (Aquarius): এই রাশির অধিপতিও হলেন গ্রহরাজ শনি দেব। তাই কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকাদের ওপরও শিবের আশীর্বাদ অটুট থাকে। এই রাশির জাতকরা যদি আন্তরিকভাবে এবং নিয়ম মেনে শিবের পুজো করেন, তাহলে তাঁরা শীঘ্র মহাদেবের আশীর্বাদ লাভ করতে পারেন। শিবলিঙ্গে প্রতিদিন জল নিবেদন করলে কুম্ভ রাশির জাতকরা জীবনের সমস্ত সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেন এবং কষ্ট লাঘব হয়। মহাদেবের কৃপায় এই রাশির জাতকদের অর্থাভাব, দুর্ভাগ্য বা দুর্ভোগ ইত্যাদি দূর হয়। সাধারণত তাঁরা স্বল্প পরিশ্রমেও একটি সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন যাপন করতে পারেন।
জ্যোতিষশাস্ত্র মতে এই চারটি রাশির ওপর শিবের বিশেষ কৃপাদৃষ্টি থাকায় এঁদের জীবন তুলনামূলকভাবে সহজ ও সমস্যাবিহীন হয়। তবে মনে রাখা উচিত, ভগবান শিবের কৃপা লাভ করার জন্য ভক্তি ও নিষ্ঠা সবচেয়ে বেশি জরুরি।
(Disclaimer: এখানে দেওয়া তথ্য জ্যোতিষশাস্ত্র এবং সাধারণ বিশ্বাস ও তথ্যের উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ব্যক্তিগত জীবনে এর প্রভাব কতটা পড়বে তা ব্যক্তির নিজস্ব জন্মছক এবং কর্মফলের উপর নির্ভরশীল।)