বকেয়া DA, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে কত টাকা ঢুকতে পারে?

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ নবান্নের উপর বিপুল আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। একদিকে যখন কর্মীদের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী কার কত টাকা বকেয়া আছে, তার একটি চিত্র সামনে এসেছে, তখনই শীর্ষ আদালত চার সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশের ফলে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকা বেরিয়ে যাবে, যা রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে এক বড় চ্যালেঞ্জ।
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, বকেয়া মহার্ঘ ভাতার একটি আনুমানিক চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
গ্রুপ ‘এ’ কর্মচারীদের মাথাপিছু বকেয়া মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ হল ৭-৮ লাখ টাকা।
গ্রুপ ‘বি’ কর্মীদের ক্ষেত্রে সেই অঙ্কটা ৫ লাখ টাকার মতো।
গ্রুপ ‘সি’ কর্মচারীদের বকেয়ার পরিমাণ ৩.৫ লাখ টাকা থেকে ৪ লাখ টাকার মধ্যে থাকবে।
গ্রুপ ‘ডি’ কর্মীদের ক্ষেত্রে সেই অঙ্কটা হল ১.২৫ লাখ টাকা থেকে ২.৫ লাখ টাকা।
সুপ্রিম কোর্ট গতকাল (শুক্রবার) যে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়েছে, তাতে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ অর্থ মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের। এই নির্দেশটি পঞ্চম বেতন কমিশন অনুযায়ী বকেয়ার উপর প্রযোজ্য হবে বলে আদালত জানিয়েছে। প্রাথমিকভাবে আদালত ৫০ শতাংশ ডিএ দেওয়ার কথা বলেছিল। পরে রাজ্যের তরফের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি তাতে তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেন, এতে সরকারের কোমর ভেঙে যাবে। এরপর রাজ্য সরকারের পক্ষের যুক্তি শুনে শীর্ষ আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশ হিসেবে ২৫ শতাংশ দিয়ে দিতেই হবে বলে জানায়। চার সপ্তাহের মধ্যে সকল কর্মচারীকে এই পরিমাণ ডিএ মিটিয়ে দিতে বলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটাতে গেলেই রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকার মতো বেরিয়ে যাবে। আর সেই বিপুল টাকাটা কোথা থেকে জোগাড় করা হবে, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন আছে এবং রাজ্য সরকারের একগুচ্ছ সামাজিক প্রকল্প চলছে। সেই পরিস্থিতিতে অন্য কোন খরচে রাশ টেনে সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মেটানো হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বাকি বকেয়ার বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে যে আগামী অগস্টে ডিএ মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। তখন পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
এমনিতে রাজ্য সরকারের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় পুরো ডিএ মেটাতে রাজ্যের কোষাগার থেকে ৪১,৭৭০.৯৫ কোটি টাকার মতো বেরিয়ে যাবে। এর মধ্যে ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট বকেয়ার অঙ্ক হল ৩,৪৫১ কোটি টাকার মতো। ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া মেটাতে খরচ হবে ৩৮,৩১৯.৯৫ কোটি টাকা।
সুপ্রিম কোর্টের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ রাজ্য সরকারের জন্য এক বিরাট আর্থিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা জোগাড় করার পাশাপাশি, ভবিষ্যতে আরও ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি মেটানোর চাপ নবান্নের উপর রয়ে গেল।