শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপর লাঠিচার্জ পুলিশের, রাতভর বিকাশভবনের সামনে চরম উত্তেজনা

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আজ সল্টলেকের বিকাশ ভবন চত্বরে বিক্ষোভ দেখাতে আসা চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় একাধিক আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন। পুলিশ জোর করে বিক্ষোভকারীদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
জানা গেছে, সকাল থেকেই চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা বিকাশ ভবন চত্বরের বাইরে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন। তাঁদের মূল দাবি ছিল – ফের পরীক্ষায় বসবেন না, পূর্বে পাওয়া চাকরিই তাঁদের স্থায়িভাবে বহাল করতে হবে। বিক্ষোভ চলাকালীন একসময় আন্দোলনকারীরা বিকাশ ভবনের একটি গেট ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তখনই ঘটনাস্থলে চলে আসে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের প্রথম পর্যায়ের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। সেই সময় তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত ঘটনাস্থলে আসেন এবং তাঁর কর্মীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের মারধর করার অভিযোগ ওঠে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর বিকালে বিকাশ ভবন চত্বরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। মহিলা পুলিশও আসে। সাইরেন বাজিয়ে আন্দোলনকারীদের সতর্ক করা হতে থাকে। অভিযোগ, এরপরই পুলিশ আন্দোলনকারীদের উপর ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু করে। পুলিশকর্মীরা বলপ্রয়োগ করে বিকাশ ভবন চত্বর থেকে বিক্ষোভকারীদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সন্ধ্যা গড়িয়ে সাড়ে সাতটার পর পুলিশ আন্দোলনকারীদের টেনে হিঁচড়ে ঘটনাস্থল থেকে সরাতে শুরু করে।
লাঠিচার্জের জেরে একাধিক বিক্ষোভকারী গুরুতর জখম হয়েছেন বলে অভিযোগ। বেশ কয়েকজনের জামা ছেঁড়ে দেওয়া হয়েছে এবং হাতে ও পায়ে আঘাত লেগেছে। রক্ত ঝরেছে বলেও দাবি আন্দোলনকারীদের।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলেন, কিন্তু পুলিশ বিনা প্ররোচনায় তাঁদের উপর হামলা চালিয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দাবি, তাঁরা তাঁদের বক্তব্য – অর্থাৎ নতুন করে পরীক্ষা না দিয়ে পুরনো চাকরিতে বহাল থাকার দাবি – মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে চান। তাঁরা রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও আগ্রহী। সেই লক্ষ্যেই তাঁরা অবস্থান করছিলেন।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট এর আগে জানিয়েছিল যে, যে সমস্ত শিক্ষকদের নিয়োগে অযোগ্যতা প্রমাণিত হয়নি, তাঁদের চাকরি ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে এবং মে মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এই রায়ের পরই চাকরিহারারা নতুন করে আন্দোলন শুরু করেন, কারণ তাঁরা একবার কষ্ট করে পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন এবং নতুন করে পরীক্ষা দিতে রাজি নন। এদিকে, রাজ্য সরকার এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন জমা দিয়েছে। চাকরিহারাদের অভিযোগ, রিভিউ পিটিশন কেন করা হয়েছে এবং তাতে কী আছে, সে বিষয়ে তাঁদের ধোঁয়াশায় রাখা হয়েছে। এই কারণেই তাঁরা সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চেয়েছেন। আজকের ঘটনা এই দীর্ঘদিনের অচলাবস্থাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।