ফের ব্যারিকেড ভেঙে ফেললেন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা, পুলিশের সামনেই বসে পড়লেন তারা

বৃহস্পতিবারের ধুন্ধুমারের পর শুক্রবার সকালেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়ালো সল্টলেকের বিকাশ ভবনের সামনে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারানো শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে অনড় থেকে দ্বিতীয় দিনেও বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন। গতকাল বিকাশ ভবনের গেট ভাঙা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পুলিশ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করলেও তারা আন্দোলন থেকে সরতে রাজি নন।

শুক্রবার সকালে বিকাশ ভবনের সামনে বিশাল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারী শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা ফের সক্রিয় হয়ে ওঠেন। গতকাল গেট ভাঙার পর পুলিশ যে ব্যারিকেড তৈরি করেছিল, আন্দোলনকারীরা পুলিশের সামনেই জোর করে সেই ব্যারিকেড টেনে সরিয়ে দেন। এরপর পুলিশ এগিয়ে এলে তারা বিকাশ ভবনের ঠিক বাইরেই রাস্তায় বসে পড়ে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন।

চাকরি ফেরানোর দাবিতে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা পুলিশের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়ে ধিক্কার স্লোগান দেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গতকাল তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ অন্যায়ভাবে লাঠিচার্জ করেছে এবং তাদের মারধর করেছে। অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ইট ছোড়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

গতকাল বিকালে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যখন আন্দোলনকারীরা বিকাশ ভবনের মূল দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এই সময় ভিতরে আটকে পড়া সরকারি কর্মীরা পাঁচিল টপকে পালানোর চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা ও ধস্তাধস্তি চরমে পৌঁছায়। এরপরই পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।

ইতিমধ্যে বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশ সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা এবং অবৈধভাবে জমায়েত করার অভিযোগে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে। তবে পুলিশের এই পদক্ষেপ সত্ত্বেও আন্দোলনকারীদের মনোবল ভাঙেনি।

শুক্রবার সকালে নতুন করে অবস্থানে বসার পর আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণভাবেই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং কোনো ভাঙচুর করবেন না। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাকরি ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতির আবহে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১৬ সালের এসএলএসটি পরীক্ষার ভিত্তিতে নিযুক্ত প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট। এরপর থেকেই যোগ্য ও অযোগ্য নির্বিশেষে সকল চাকরিহারা তাদের চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাদের মূল দাবি, রাজ্য সরকারকেই আইনি পথে তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে এবং নতুন করে পরীক্ষায় বসার চাপ দেওয়া যাবে না। গতকাল ও আজ বিকাশ ভবনের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনা এই আন্দোলনকে আরও একবার রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।