“ওরা আমাদের মাথায় মেরেছে, আমরা ওদের….?”-কাশ্মীরে হুঙ্কার ছুড়লেন রাজনাথ সিংহ

ভারতীয় সেনার সফল ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের পর এই প্রথমবার জম্মু ও কাশ্মীর সফরে গেলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বৃহস্পতিবার শ্রীনগরের বাদামিবাগে চিনার কর্পস-র সদর দফতরে পৌঁছে তিনি সেনাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর ও আপসহীন অবস্থানের কথা আরও একবার স্পষ্ট করে দেন। তার বক্তব্যে তিনি পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ করেন এবং তাদের পরমাণু ব্ল্যাকমেলিংকে ভারত ভয় পায় না বলেও জানিয়ে দেন।
রাজনাথ সিং শ্রীনগরে পৌঁছে প্রথমে চিনার কর্পস সদর দফতরে সেনাকর্মী এবং বিমান বাহিনীর কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি পাকিস্তানি সেনার ছোড়া গোলাগুলি বা সাম্প্রতিক সামরিক কার্যকলাপের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাও পরিদর্শন করেন। এরপর কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারানো সকল নিরীহ নাগরিক এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় শহিদ হওয়া আমাদের সেনাদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই। আমি আমাদের আহত সেনাদের সাহসকে স্যালুট জানাই এবং ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যে তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সুস্থ হয়ে উঠুন।” তিনি সেনাদের বীরত্বের প্রশংসা করে বলেন, “আপনাদের সেই শক্তি আমি অনুভব করতে পেরেছি, যা শত্রুদের ধ্বংস করেছিল। সীমান্তের ওপারে পাকিস্তানি পোস্ট এবং বাঙ্কার ধ্বংস করার পদ্ধতি শত্রুরা কখনও ভুলবে না।” তিনি সেনাদের বুদ্ধিমত্তা ও সংযমের প্রশংসা করে বলেন, “আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে মানুষ সাধারণত উত্তেজনায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু আপনারা উৎসাহ, বিবেক বজায় রেখেছেন এবং বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে শত্রুর লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছেন।”
নিজের সফর সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাজনাথ বলেন, “আজ আমি এখানে কেবল প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন নাগরিক হিসেবেও এসেছি। আমি সমগ্র দেশের শুভকামনা, প্রার্থনা এবং কৃতজ্ঞতা বয়ে নিয়ে আপনাদের মাঝে এসেছি। এক অর্থে আপনারা বুঝতে পারছেন যে আমি আপনাদের মাঝে একজন ডাকপিয়ন হিসেবে এসেছি এবং দেশবাসীর কাছ থেকে একটি বার্তা নিয়ে এসেছি। বার্তাটি হল, ‘আমরা আমাদের বাহিনীর জন্য গর্বিত’।”
সন্ত্রাসবাদের ইস্যুতে পাকিস্তানকে তীব্রভাবে আক্রমণ করে রাজনাথ বলেন, “আপনাদের মনে থাকবে যে প্রায় একুশ বছর আগে এই পাকিস্তানই ইসলামাবাদে অটলজির (অটল বিহারী বাজপেয়ী) সামনে ঘোষণা করেছিল যে তাদের মাটি থেকে আর সন্ত্রাসবাদ রফতানি করা হবে না। কিন্তু পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং আজও করছে। এখন তাদের এর জন্য চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। আর এই খরচ ক্রমাগত বাড়বে।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, সন্ত্রাস দমনে ভারত যে কোনও দূর পর্যন্ত যেতে পারে।
পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র এবং তাদের পরমাণু ব্ল্যাকমেলিং নিয়েও রাজনাথ কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের সংকল্প আজ কতটা দৃঢ়, তা অনুমান করা যায় যে আমরা তাদের পরমাণু ব্ল্যাকমেলের দিকেও মনোযোগ দেইনি। গোটা বিশ্ব দেখেছে যে পাকিস্তান কত দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে ভারতকে বেশ কয়েকবার পরমাণু হুমকি দিয়েছে।” শ্রীনগরের মাটি থেকে তিনি সমগ্র বিশ্বের সামনে এই প্রশ্নটি উত্থাপন করেন, “এমন একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং দুর্বৃত্ত জাতির হাতে কি পরমাণু অস্ত্র নিরাপদ?” তিনি বিশ্বাস করেন যে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) তত্ত্বাবধানে নেওয়া উচিত।
রাজনাথ সিং-এর এই সফর এবং তার শক্তিশালী বক্তব্য ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারতের কঠোর অবস্থানকে আরও একবার সামনে এনেছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত কোনও আপস করবে না এবং পাকিস্তানের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকে আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরতে দ্বিধা করবে না।