বিরিয়ানির মাংসে ওগুলো কী?-কিল-বিল করা পোকা দেখে তুলকালাম-বিক্ষোভ ক্রেতাদের

বিরিয়ানি বাঙালির অন্যতম প্রিয় খাবার, যার টানে রেস্তোরাঁ বা দোকানে ভিড় জমান বহু মানুষ। সেই সুস্বাদু খাবারেই যদি পোকা কিলবিল করতে দেখা যায়, তাহলে কেমন লাগবে? এমনই এক জঘন্য ঘটনা ঘটেছে শিলিগুড়িতে, যা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়ির চম্পাসাড়ি এলাকায়। জানা গেছে, বুধবার দুপুরে এক কলেজ ছাত্রী সেখানকার একটি জনপ্রিয় বিরিয়ানি দোকান থেকে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু বাড়িতে এসে বিরিয়ানির প্যাকেট খুলতেই তিনি যা দেখেন, তাতে তার চক্ষু চড়কগাছ! বিরিয়ানির মাংসে কিলবিল করছে অসংখ্য পোকা। এই বীভৎস দৃশ্য দেখে এক লহমায় বিরিয়ানি খাওয়ার সমস্ত আনন্দ ও ইচ্ছা ম্লান হয়ে যায় ওই ছাত্রীর।
বিরিয়ানিতে পোকা দেখতে পেয়েই ক্ষুব্ধ ছাত্রীটি সঙ্গে সঙ্গে ওই বিরিয়ানি দোকানে ফিরে যান এবং দোকানদারকে বিষয়টি জানান। অভিযোগ, প্রথমে দোকানদার পোকা থাকার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। কিন্তু ওই ছাত্রী প্রমাণ দেখালে এবং তার দাবিতে অনড় থাকলে শেষ পর্যন্ত দোকানদার পোকা থাকার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন। দোকানদারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বিরিয়ানি বাসি থাকার ফলেই তাতে পোকা লেগে গিয়েছিল।
এই ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকার অন্যান্য বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা দলবদ্ধভাবে ওই বিরিয়ানি দোকানের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান নগর থানার পুলিশ।
তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে দোকানদার দোকান খোলা রেখেই সেখান থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ এরপর দোকানের ভেতরের সামগ্রী সরিয়ে নেয় এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে দোকানটিতে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আশ্বাস দেওয়ার পর উত্তেজিত জনতা শান্ত হয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
উল্লেখ্য, মাত্র কয়েকদিন আগেই শিলিগুড়ির লেকটাউন এলাকায় একই বিরিয়ানি ব্র্যান্ডের অন্য একটি শাখায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেও বিরিয়ানিতে পোকা পাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এক মাসের মধ্যে একই ব্র্যান্ডের দুটি আলাদা শাখায় বিরিয়ানিতে পোকা মেলার ঘটনায় শহরের খাদ্য গুণমান এবং প্রশাসনিক নজরদারির উপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন উঠেছে। খাদ্য দপ্তরের উচিত দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া এবং শহরের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা।