“ভারতে ঢুকে হামলার চেষ্টা…”-দেখা মাত্রই ৭ পাক জঙ্গিকে খতম করল বিএসএফ

পাকিস্তানের লাগাতার উস্কানি এবং ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা কড়া হাতে দমন করছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (BSF) এবং সেনাবাহিনী। সাম্প্রতিককালে সাম্বা সেক্টরে অনুপ্রবেশের একটি বড়সড় চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিএসএফ, যেখানে সীমান্ত রক্ষীদের গুলিতে ৭ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, নিহত ওই জঙ্গিরা কুখ্যাত জইশ-ই-মুহাম্মদ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে যে ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা কতটা দুর্ভেদ্য এবং পাকিস্তানি মদতপুষ্ট জঙ্গিদের কোনো অনুপ্রবেশের চেষ্টাই সফল হবে না।

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার কড়া জবাব দিতে গত বুধবার মধ্যরাতে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) এবং পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডে মোট ৯টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান চালায়। এই অভিযানে একাধিক জঙ্গি শিবির এবং তাদের পরিকাঠামো নির্ভুল নিশানায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

অপারেশন সিঁদুরের পর থেকেই পাকিস্তান দিশাহারা হয়ে ভারতের উপর পাল্টা আঘাত হানার মরিয়া চেষ্টা করছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা একাধিক শহরে ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানোর চেষ্টা করা হয়। জম্মু, রাজস্থান এবং পঞ্জাবের একাংশেও পাকিস্তানি ড্রোন দেখা গিয়েছিল। তবে ভারতের কড়া প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এই সমস্ত ড্রোন হামলাকে সফল হতে দেয়নি। পাকিস্তানের হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করতে গতরাতে ভারতের একাধিক শহরে সতর্কতা হিসেবে ব্ল্যাকআউটও করা হয়। পাল্টা হিসেবে ভারতও লাহোরের দিকে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে খবর।

বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য হলো, গতকাল (বৃহস্পতিবার) ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ শহর লাহোরের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। পাকিস্তান তাদের শহর রক্ষার জন্য যে চিনা HQ-9 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করছিল, তা ভারতীয় প্রযুক্তির সামনে টিকতে পারেনি। এই বড়সড় ধাক্কা সত্ত্বেও পাকিস্তান একের পর এক ছোটখাটো হামলা চালানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে, যা তাদের দিশাহারা অবস্থাই স্পষ্ট করে।

শুক্রবার সকালেও দেশের বিভিন্ন শহরে এবং সীমান্ত এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তগুলিতে বিএসএফ এবং সেনাবাহিনী কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। গতকাল প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান এখনও শেষ হয়নি এবং তা জারি রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ভারত নিজে সংঘাতের পক্ষে নয়, তবে দেশের উপর কোনো হামলা হলে তার যোগ্য জবাব দিতে ভারত সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীরে উচ্চ সতর্কতা (High Alert) জারি করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনস্থল যেমন তাজমহল, লাল কেল্লা, কুতুব মিনার সহ অন্যান্য স্থানে নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি তৈরি করা হয়েছে। মুম্বইয়ের সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকাগুলিতেও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, ভারত তার সামরিক শক্তি এবং সুসংহত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে পাকিস্তানের যে কোনো দুষ্কর্মের প্রচেষ্টা রুখে দিচ্ছে। একদিকে যেমন জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে, তেমনই ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে পাকিস্তানের মাটিতে থাকা জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সমগ্র দেশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং পাকিস্তানের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।