সাঁবা সীমান্তে বিএসএফের বড় সাফল্য! গোলাবর্ষণের আড়ালে খতম ৭ সন্দেহভাজন জইশ জঙ্গি

অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী পরিস্থিতিতে জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্বা জেলায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বড়সড় সাফল্য পেল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF)। শুক্রবার ভোররাতে পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখে দিয়ে তারা ৭ জন সন্দেহভাজন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) জঙ্গিকে নিকেশ করেছে।
সূত্র মারফত জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা নাগাদ গোপন সূত্রে জঙ্গি অনুপ্রবেশের খবর আসে। এর পরপরই সীমান্তরক্ষীরা সাম্বা সীমান্তের কাছে কিছু সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘনের আড়ালে গোলাবর্ষণের ফাঁকে এই জঙ্গিরা ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিল।
বিএসএফের পক্ষ থেকে তাদের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বে টুইটার) জানানো হয়েছে যে, জম্মু-কাশ্মীরের সাম্বা জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত ডিঙিয়ে কয়েকজন ভারতে ঢোকার চেষ্টা করেছিল এবং জওয়ানরা তাদের প্রতিহত করেছে।
বিএসএফ একটি ভিডিও প্রকাশ করে দেখিয়েছে যে, একসঙ্গে মোট সাতজন জইশ জঙ্গি একত্রিতভাবে অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা করছিল। বিএসএফ জওয়ানরা শুধু অনুপ্রবেশ প্রচেষ্টাই রুখে দেয়নি, তারা ধনধার এলাকার একটি পাকিস্তানি ছাউনি লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানে, যা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পাল্টা আঘাতেই ঘাপটি মেরে ঢোকার মতলবে থাকা ওই সাত জঙ্গি নিহত হয় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, অপারেশন সিঁদুরের পর থেকেই পাকিস্তান এবং বিশেষ করে জইশ-ই-মহম্মদ ভারতের ওপর প্রতিশোধ নিতে মরিয়া। বিশেষ করে জইশের অপারেশনাল চিফ মাসুদ আজহারের ছোট ভাই রউফের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর জঙ্গিরা আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। পহলগাম ঘটনার পর থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর এবং সীমান্ত এলাকা থেকে চুক্তি ভেঙে বারবার গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে, যাতে ভারতের তরফে বেশ কয়েকজন হতাহতও হয়েছেন। অতীতেও দেখা গেছে, যখনই জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়, তখনই পাকিস্তান গুলি চালাতে শুরু করে অনুপ্রবেশকারীদের সাহায্য করার জন্য। এই একই ধারা অব্যাহত থাকায় সীমান্তে বিএসএফ অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলা গুলির লড়াইয়ে বিএসএফ জওয়ানরা সাহসিকতার পরিচয় দেন।