ভারতের রাফাল ধ্বংস করার দাবি পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর! প্রমাণ কী? উত্তরে বললেন ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি’

ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ যে পাকিস্তানকে ভালো রকম নাড়িয়ে দিয়েছে, তা স্পষ্ট। যুদ্ধ লাগলে তারা নাকি ভারতের সামনে মেরেকেটে চারদিনের বেশি টিকতে পারবে না – এমন আলোচনা যখন চলছে, ঠিক তখনই আরও ভীত পাকিস্তান মিথ্যাচারকেই তাদের প্রধান হাতিয়ার করে তুলেছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে খোদ পাকিস্তানের মন্ত্রীরাও এখন কোনও তথ্য যাচাই না করেই ভিত্তিহীন ও ভুয়ো খবর রটাতে শুরু করেছেন।
পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার দাঁতভাঙা জবাব দিতে ভারত যখন পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়, তার পরই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ এক অদ্ভুত দাবি করে বসেন। তিনি বলেন, ভারতীয় বায়ুসেনার রাফাল, মিগ সহ মোট ৫টি যুদ্ধবিমান নাকি তারা ধ্বংস করে দিয়েছে! পাকিস্তানের এই দাবি নিয়ে প্রথমে কিছু সংবাদমাধ্যমে খবর হলেও, দ্রুতই এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
কিন্তু পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই অলীক দাবি প্রমাণ করার জন্য কী যুক্তি দিয়েছিলেন জানেন? একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম (সিএনএন) যখন তাঁর কাছে এই দাবির সত্যতা এবং প্রমাণ জানতে চায়, উত্তরে তিনি যা বলেন, তা রীতিমতো হাসির উদ্রেক করে। তিনি বলেন, “আমি সোশ্যাল মিডিয়াতে এই খবর দেখেছি। ভারতীয় সোশ্যাল মিডিয়াতেই দেখেছি। বিমানের ধ্বংসাবশেষ নাকি ওদের দিকেই পড়েছে এবং ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেই এই খবর দেখানো হচ্ছে।”
প্রশাসনিক এত উচ্চ পদে থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে কোনও খবরের সত্যতা যাচাই না করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা তথ্যের ভিত্তিতে এমন স্পর্শকাতর দাবি করতে পারেন, তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। পরে ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্য যাচাই সংস্থা (PIB) একটি ফ্যাক্ট চেক করে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাহাওয়ালপুরে ভারতীয় বায়ুসেনার রাফাল বা মিগ জেট ধ্বংস করেছে বলে যে দাবি করছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। শুধু তাই নয়, এই দাবি প্রমাণ করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভিডিয়ো ছড়ানো হয়েছে, সেটিও আসলে ২০২১ সালে পঞ্জাবের মোগায় ভেঙে পড়া একটি মিগ-২১ বিমানের পুরনো ভিডিয়ো।
স্পষ্টতই, ভারতের কার্যকর প্রত্যাঘাতে পাকিস্তান ভীত এবং দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এই কারণেই তারা সত্যি ঘটনা চেপে গিয়ে মিথ্যা এবং অপপ্রচারের আশ্রয় নিচ্ছে। কিন্তু তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে তাদের এই হাস্যকর মিথ্যাচার বেশিদিন ধোপে টিকছে না, তা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে।