‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরেই সুর বদল চিনের, ‘বন্ধু’ পাকিস্তানের পাশে নেই জিনপিং?

ভারতীয় বাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুর’ পাকিস্তানকে বড় ধাক্কা দেওয়ার পাশাপাশি বেজিংকেও খানিকটা অস্বস্তিতে ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সুনির্দিষ্ট সন্ত্রাসবাদী লক্ষ্যবস্তুতে ভারতের গভীর রাতের বিমান হামলার পর চিনের চিরাচরিত পাকিস্তানপন্থী অবস্থানে কিছুটা বদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে তারা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, তেমনই ভারতের সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও তাদের অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।

চিনের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে এই বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। ভারত ও পাকিস্তান চিরকাল প্রতিবেশী থাকবে এবং দু’জনেই আমাদের প্রতিবেশী। চিন সন্ত্রাসবাদের সব রকমের বিরোধিতা করে।” একই সঙ্গে চিন উভয় পক্ষকে শান্তি বজায় রাখার এবং এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা রক্ষায় উস্কানিমূলক কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে চিনের বিবৃতিতে এটিও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, “ভারতের সামরিক পদক্ষেপের কারণে আমরা দুঃখিত।”

পর্যবেক্ষকদের মতে, পুলওয়ামা বা বালাকোটের মতো পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোর সময় চিন যেভাবে সরাসরি পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিল, ভারতীয় সেনাবাহিনীর অত্যন্ত পরিকল্পিত ও যৌথ আক্রমণাত্মক অভিযানের পর তাদের কূটনৈতিক ভাষায় এবার কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়ার অভিযোগ এবং ভারতের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণসহ পদক্ষেপ হয়তো চিনকেও কৌশলগতভাবে কিছুটা নমনীয় হতে বাধ্য করেছে।

উল্লেখ্য, ভারতীয় সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর যৌথভাবে পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ এক রাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মোট ৯টি সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে, গুলপুর, ভিম্বর, চক আমরু, বাগ, কোটলি, শিয়ালকোট ও মুজাফফরাবাদ—ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা RAW-এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিটি টার্গেট নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। জানা গেছে, বাহাওয়ালপুরে ছিল নিষিদ্ধ সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের সদর দফতর এবং মুরিদকে ছিল লস্কর-ই-তৈয়বার ঘাঁটি। এইসব স্থানে হাই-প্রিসিশন স্ট্রাইক চালানো হয় যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের মাধ্যমে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং এই অভিযানের নামকরণ করেছেন ‘অপারেশন সিঁদুর’। তিনি একাধিকবার এই প্রসঙ্গে বলেছেন যে, পহেলগামে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের উপর সন্ত্রাসবাদী হামলা ছিল অত্যন্ত কাপুরুষোচিত এবং এতে বহু পুরুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের স্ত্রীদের জীবন বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে সন্ত্রাসীদের আর কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

ভারতের এই কড়া পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদিও চিন ভারতের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সামান্য ‘দুঃখ’ প্রকাশ করেছে, তবে তাদের ‘সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা’-র বার্তা প্রকারান্তরে ভারতের অবস্থানকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করছে বলেই ধরে নেওয়া যেতে পারে।