“দেশজুড়ে জায়গায় জায়গায় হলো মক ড্রিল”-১৩ দেশকে Operation Sindoor-এর তথ্য দিল ভারত

সাম্প্রতিক উত্তেজনার আবহে দেশজুড়ে নাগরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে বিভিন্ন স্থানে সিভিল ডিফেন্স মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিহারের পাটনা, উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউ সহ দেশের একাধিক শহরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন (ব্ল্যাকআউট) করা হয়। এমনকি দিল্লির অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা লুটিয়েন্সেও রাত ৮টা থেকে রাত ৮:১৫ পর্যন্ত ১৫ মিনিটের জন্য ব্ল্যাকআউট চলে। নয়াদিল্লি পুরসভা বিবৃতি জারি করে এই মক ড্রিলের কথা নিশ্চিত করেছে।

তবে নিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লির কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে এই ব্ল্যাকআউট ড্রিলের আওতা থেকে বাইরে রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল হাসপাতাল, ডিসপেনসারি, রাষ্ট্রপতি ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও), মেট্রো স্টেশন এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় অফিস। এই স্থানগুলিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। এই মহড়ার উদ্দেশ্য ছিল আচমকা কোনো ব্ল্যাকআউট বা জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিক পরিষেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা সক্রিয় থাকে তা পরীক্ষা করা।

এদিকে, বুধবার নয়াদিল্লিতে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি ১৩ জন বিদেশি রাষ্ট্রদূতকে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী শিবিরগুলিতে ভারতের নির্ভুল হামলা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। ভারতের এই পদক্ষেপের কারণ ও প্রেক্ষাপট তিনি রাষ্ট্রদূতদের সামনে তুলে ধরেন।

বিদেশ সচিব বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। পাকিস্তানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে বিক্রম মিশ্রি স্পষ্টভাবে জানান যে, পাকিস্তান যদি কোনো প্রত্যাঘাত করে, তবে ভারত তার যোগ্য জবাব দেবে।

ভারতের বিমান হামলার বিষয়ে মিশ্রি বলেন, এটি ছিল পাহেলগাঁও গণহত্যার প্রত্যাঘাত, যেখানে ২৬ জন নিরীহ নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মূল লক্ষ্যই ছিল সন্ত্রাসবাদী শিবিরগুলি। ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বায়ুসেনার সমন্বিত আক্রমণে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত মোট নয়টি জঙ্গি শিবিরে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে বিদেশ সচিব জানান।

একদিকে সিভিল ডিফেন্স মহড়ার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রস্তুতি যাচাই এবং অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা – এই দুটি ঘটনাই সাম্প্রতিক সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ভারতের সক্রিয়তা এবং সতর্কতার ইঙ্গিত বহন করে।