ভারত-পাক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উত্তরপ্রদেশে জারি রেড অ্যালার্ট, রাজ্য জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীরে (PoK) ভারতের সফল ‘মিড নাইট এয়ার স্ট্রাইক’ এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর এবার উত্তর প্রদেশে জারি করা হলো উচ্চ সতর্কতা বা রেড অ্যালার্ট। এই সামরিক প্রত্যাঘাতের আবহে দেশের মধ্যে উত্তর প্রদেশই প্রথম রাজ্য যারা এই ধরনের ‘লাল সতর্কতা’ জারি করেছে।

উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (ডিজিপি) তাদের অফিসিয়াল এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডলে এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন। ডিজিপি উত্তরপ্রদেশ তাদের পোস্টে লিখেছেন, “‘অপারেশন সিন্দুর-এর পর উত্তরপ্রদেশ জুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি করা হলো।” এই ঘোষণার পরেই রাজ্য জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

রেড অ্যালার্ট জারির পাশাপাশি উত্তর প্রদেশ পুলিশকে বেশ কিছু জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য পুলিশকে ডিফেন্স ইউনিটগুলির সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্য জুড়ে সম্ভাব্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সমস্ত রকম নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে (বা বুধবার ভোররাতে) পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)-এর অন্তত ৯টি সুনির্দিষ্ট জঙ্গি ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়ে প্রত্যাঘাত করেছে ভারত। পহেলগাঁও হামলার যোগ্য জবাব হিসেবে পরিচালিত এই অভিযানে পাক জঙ্গিঘাঁটিগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

ভারতের এই শক্তিশালী প্রত্যাঘাতের পর বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বিদেশমন্ত্রীর বার্তা ছিল, সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে ভারতের নীতি একটাই, আর তা হলো ‘নো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা।

মনে করা হচ্ছে, ভারতের এই সামরিক পদক্ষেপের পর পাকিস্তানে এবং আন্তর্জাতিক মহলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে পূর্ব সতর্কতা হিসেবেই উত্তর প্রদেশে এই রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। সম্ভাব্য কোনো পাল্টা হুমকি বা গোয়েন্দা ইনপুট থাকার কারণেই নিরাপত্তা জোরদার করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে এবং পুলিশকে সদা সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর উত্তরপ্রদেশের এই রেড অ্যালার্ট জারি দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি একদিকে যেমন রাজ্যের সতর্কতা নির্দেশ করে, তেমনই এটিও স্পষ্ট করে দেয় যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে কোনো পদক্ষেপের পর ভারত অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার বিষয়ে কতটা সজাগ থাকে এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকে।