“মেরে দাড়ি নোচ লিয়ে থে!”- জঙ্গি নেতা মাসুদ আজ়হারের আরও অডিয়ো ক্লিপ পেলো গোয়েন্দারা

সমাজসেবার আড়ালে জঙ্গি রিক্রুটমেন্ট থেকে শুরু করে বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান—পাকিস্তানের মাটিতে বসে এই সমস্ত কিছুই অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। এই ভয়াবহ চিত্র আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরতে ভারত যে শক্তিশালী ডসিয়ের (তথ্যপ্রমাণ সম্বলিত নথি) তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাতে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

এই ডসিয়েরে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জৈশ-ই-মুহম্মদ নেতা মৌলানা মাসুদ আজ়হারের আরও কিছু নতুন এবং চাঞ্চল্যকর অডিয়ো ক্লিপ হাতে পেয়েছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। এর মধ্যে একটি ক্লিপে মাসুদকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘মেরে দাড়ি নোচ লিয়ে থে’ (আমার দাড়ি উপড়ে নিয়েছিল)। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, জম্মুতে তার গ্রেপ্তারের কথা বলতে চেয়ে প্রতিশোধের আগুন উসকে দিতে চেয়েছে জৈশ প্রধান। এই অডিয়ো ক্লিপগুলো ডসিয়েরে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যা পাকিস্তানের জঙ্গি মদতের স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কী করছে জঙ্গি সংগঠনগুলি?

গোয়েন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, লস্কর-ই-তৈবা তাদের মূল কর্মকাণ্ড আড়াল করার জন্য জামাত-উদ-দাওয়াকে (JuD) সামনে রাখে। পাকিস্তানে জামাত-উদ-দাওয়া একাধিক স্কুল, হাসপাতাল পরিচালনা করে এবং বন্যা বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণের কাজেও এই সংগঠনটির সক্রিয় ভূমিকা দেখা যায়। এই সমস্ত সমাজকল্যাণমূলক কাজের নাম করে জামাত-উদ-দাওয়া বিপুল পরিমাণ ফান্ড বা তহবিল সংগ্রহ করে। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, এই সংগৃহীত ফান্ডই আসলে জঙ্গি কার্যকলাপে কাজে লাগানো হয়। বিশেষ করে নতুন সদস্য রিক্রুটমেন্ট এবং তরুণদের মৌলবাদে দীক্ষিত করার কাজে এই অর্থের ব্যবহার হয়। আমেরিকা এবং রাষ্ট্রপুঞ্জ যখন লস্কর-ই-তৈবার উপরে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা জারি করে, তখন তারা অর্থ সংগ্রহের জন্য এই ঘুরপথ অবলম্বন করে। জামাত-উদ-দাওয়া ছাড়াও ফালাহ-ই-ইনসানিয়ত (FIF), আল মদিনা এবং আয়সার ফাউন্ডেশন নামে আরও তিনটি সংগঠন তৈরি করে লস্কর টাকা তুলছে বলে গোয়েন্দারা জানিয়েছেন।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক চালচিত্রেও লস্কর-ই-তৈবা নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে। এ ক্ষেত্রে তারা মিল্লি মুসলিম লিগ (MML) নামে একটি রাজনৈতিক দল তৈরি করেছে। এই দলটি পাকিস্তানের বিভিন্ন নির্বাচনে অংশও নিয়েছে। তবে তাদের মূল লক্ষ্য নির্বাচন জয় করা নয়, বরং রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিতি ব্যবহার করে পলিটিক্যাল ফান্ড জোগাড় করে সেই অর্থকে জঙ্গি কার্যকলাপে কাজে লাগানো।

অন্যদিকে, জৈশ-ই-মুহাম্মদ আবার টাকা তোলার জন্য আল রহমত ট্রাস্ট নামে একটি সংগঠন তৈরি করেছে। এই ট্রাস্টটিও সমাজসেবার আড়ালেই কাজ করে। গোয়েন্দাদের বক্তব্য, আল রহমত ট্রাস্টের মাধ্যমে সংগৃহীত টাকা মূলত সীমান্ত পার করে জঙ্গিদের ভারতে পাঠাতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও অস্ত্রশস্ত্র কেনা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের জোগাড়ও এই টাকায় হয়। আর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ খরচ করা হয় জঙ্গি সংগঠনের প্রচারমূলক কাজে।

মাসুদ আজ়হারের উস্কানিমূলক অডিও ক্লিপ:

এই প্রচারের সূত্রেই গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে জৈশ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজ়হারের আরও কিছু চাঞ্চল্যকর অডিয়ো ক্লিপ। তার একটিতে তাকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘মেরে দাড়ি নোচ লিয়ে থে…।’ এই অডিয়ো ক্লিপগুলিতে মাসুদ আজ়হার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উল্লেখ করে এ-ও বলতে শোনা গিয়েছে, ‘ইন্ডিয়া তেরি মওত আয়েগি।’ ধর্মের জিগির তুলে একটি অডিয়ো ক্লিপে সে বলেছে, ‘হামনে ইসলাম কি হিফাজ়ত কে লিয়ে আসলা উঠায়া হ্যায়’ (ইসলামকে রক্ষা করার জন্য আমরা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছি)। এমনকী পাক সেনাবাহিনী এবং পাকিস্তান রেঞ্জার্স তাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করছে, এমন বিস্ফোরক কথাও সেই অডিয়ো ক্লিপে পাওয়া গিয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের খবর। এই সমস্ত তথ্যই ভারত এখন একত্রিত করে শক্তিশালী ডসিয়েরের আকারে তৈরি করছে।

আন্তর্জাতিক মহলের সামনে পাকিস্তানের আসল চেহারা উন্মোচন করাই এই ডসিয়েরের মূল উদ্দেশ্য। সমাজসেবার মুখোশের আড়ালে পাকিস্তান কীভাবে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে মদত দিচ্ছে, তাদের রিক্রুটমেন্ট এবং অর্থের জোগানে সাহায্য করছে, এই ডসিয়েরের মাধ্যমে সেই সমস্ত প্রমাণ পেশ করা হবে। এটি পাকিস্তানের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।