বিয়ের প্ল্যান! ‘ফোন করে প্রেমিক জানিয়ে দেয় আসতে পারবো না’, বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে চরম সিদ্ধান্ত মাধ্য়মিক পরীক্ষার্থীর

আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে এক চরম মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর থানার বাকড়া এলাকায়। ষোলো বছর বয়সী এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কিশোরী প্রেমিকের প্রতারণার শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পড়াশোনার চাপ এবং গোপন প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই এই করুণ পরিণতি।
জানা যায়, এই বছরই মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল ওই নাবালিকার। আটুরিয়া এলাকার এক যুবক সুমন দাসের সঙ্গে তার বেশ কয়েক বছরের গোপন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই প্রেমিককে বিয়ে করার পরিকল্পনা করেছিল সে। সেই অনুযায়ী রবিবার রাতে তারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। পূর্ব পরিকল্পনা মতো, ওই কিশোরী জামাকাপড় ব্যাগে ভরে চুপিসারে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে প্রেমিকের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। সেখানে পৌঁছে সে সুমন দাসকে বারবার ফোন করলেও, প্রেমিক বিয়ে করতে আসতে সরাসরি অস্বীকার করে দেয়।
প্রেমিকের কাছ থেকে এমন প্রত্যাখ্যান পেয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে ওই কিশোরী। নিরাশ হয়ে সে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসে। বাড়িতে তখন কেউ ছিল না। সেই সুযোগে সে ফাঁকা একটি ঘরে গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফিরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে স্বরূপনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট মর্গে পাঠায়।
ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ একটি অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের পাশাপাশি চাঞ্চল্যও সৃষ্টি হয়েছে। কিশোরীর পরিবার এই প্রতারণার বিচার চাইছে।