পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে জাফরাবাদের নিহত বাবা-ছেলের পরিবার

মুর্শিদাবাদের জাফরাবাদে সম্প্রতি অশান্তির জেরে নিহত বাবা ও ছেলের পরিবারের লোকজন এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তারা অভিযোগ তুলেছেন যে, বিধাননগরের একটি সেফ হাউজে আশ্রয় নেওয়া অবস্থায় বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশ তাদের জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। এই ঘটনায় পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তা’র অভিযোগ তুলে তারা কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করার আবেদন জানিয়েছিলেন। সোমবার (মে ৫, ২০২৫) কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ওই পরিবারের সদস্যদের এই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন।
অভিযোগকারী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতে (মে ৪, ২০২৫) প্রায় ৪০ জন পুলিশের একটি দল বিধাননগরের ওই সেফ হাউজে যায়। তারা জোর করে সেফ হাউজের দরজা ভেঙে নিহতদের পরিবারের লোকজনকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে ঘিরে সেখানে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
যদিও এই ঘটনার পর পুলিশের তরফে দাবি করা হয় যে, নিহতদের পরিবারের লোকজনকে নাকি অপহরণ করা হয়েছে এবং পুলিশ একটি উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছিল। অন্যদিকে, নিহতদের পরিবারের লোকজনের স্পষ্ট দাবি, তাদের অপহরণ করা হয়নি, বরং তারা স্বেচ্ছায় এবং নিজেদের সুরক্ষার জন্য বিধাননগরের ওই সেফ হাউজে এসেছেন। এই পরিস্থিতিতে বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের এই আচরণের বিরুদ্ধে ‘অতিসক্রিয়তা’র অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করার আবেদন জানানো হয়। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সোমবার সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে মুর্শিদাবাদের সুতি, ধূলিয়ান, সামসেরগঞ্জ-সহ একাধিক এলাকা ওয়াকফ ইস্যুতে তপ্ত হয়ে ওঠে। ব্যাপক বাড়ি ভাঙচুর, আগুন লাগানো এবং লুঠপাটের ঘটনা ঘটে। সবথেকে ভয়ঙ্কর অভিযোগ ওঠে সামসেরগঞ্জের জাফরাবাদে, যেখানে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতি সরগরম হয়ে ওঠে এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।
এর মধ্যেই একবার শোনা গিয়েছিল যে নিহত দুজনের স্ত্রীদের অপহরণ করা হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে তাদের সল্টলেকের (বর্তমান বিধাননগরের) একটি সেফ হাউসে হদিশ মেলে। বর্তমানে নিহত বাবা-ছেলের পরিবারের বাকি সদস্যরাও সেখানেই রয়েছেন। রবিবার রাতে সেখানে পুলিশের যাওয়ার ঘটনা এবং পরিবারের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সোমবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদ সফরে গেছেন। তাঁর এই সফরের দিনেই নিহতদের পরিবারের পুলিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।