“চন্দ্রভাগা নদীর জল আটকাল ভারত”-বড় বিপদের মুখে পড়বে এবার পাকিস্তান?

পহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর এবং এর জেরে সিন্ধু জলচুক্তি রদ করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্যেই ভারত এবার চন্দ্রভাগা (চেনাব) নদীর জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করলো। জম্মু ও কাশ্মীরের রামবান জেলায় অবস্থিত বাগলিহার বাঁধের মাধ্যমে রবিবার এই জল আটকানো হয়েছে। এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। উল্লেখ্য, চন্দ্রভাগা নদীর জল পাকিস্তানের দিকে প্রবাহিত হয়।
গত সপ্তাহে পহেলগাম হামলার পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। এরই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তি বাতিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। এই চুক্তির আওতায় সিন্ধু এবং তার উপনদীগুলির জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কিছু বাধ্যবাধকতা ছিল ভারতের। কিন্তু চুক্তি বাতিলের পর ভারত এখন বাগলিহার এবং উত্তর কাশ্মীরের কিষাণগঙ্গা বাঁধের জলের উপর অনেকটাই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করেছে।
চন্দ্রভাগা নদীর উপর নির্মিত বাগলিহার বাঁধটি দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধের অন্যতম কারণ ছিল। এই বাঁধ নির্মাণ নিয়ে পাকিস্তান অতীতে আপত্তি জানিয়ে বিশ্বব্যাঙ্কের দ্বারস্থও হয়েছিল। সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছিল যে ঝিলম নদীর জল ছেড়ে দেওয়ার কারণে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাংশে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যেই এবার চন্দ্রভাগার জল আটকানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
রবিবার বাগলিহার বাঁধের মাধ্যমে চন্দ্রভাগা নদীর জলপ্রবাহ আটকানো হয়েছে। তবে, কতক্ষণের জন্য এই বাঁধ কার্যকর থাকবে বা ভবিষ্যতে বাগলিহার বাঁধের জল কীভাবে ব্যবহৃত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো সরকারি ঘোষণা এখনো আসেনি। কিন্তু চন্দ্রভাগা নদীর জল পাকিস্তানের বিশেষ করে পাঞ্জাব প্রদেশের সেচ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই পদক্ষেপের ফলে পাকিস্তানে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পহেলগামের জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর কেন্দ্রীয় সরকার একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া, পাকিস্তান থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ করা এবং ইসলামাবাদে ভারতীয় দূতাবাস থেকে প্রতিনিধিদের ফিরিয়ে আনা সহ একাধিক কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিন্ধু জলচুক্তি রদ করা ছিল সেই পদক্ষেপগুলির মধ্যে অন্যতম। চন্দ্রভাগার জল আটকানোর পর দিল্লি আরও কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় কিনা, সেটাই এখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সৃষ্ট চরম উত্তেজনার আবহে সবার নজর থাকছে।