মুর্শিদাবাদে মুখ্যমন্ত্রী, মাসখানেক পর হিংসা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে মমতা

গত মাসে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক অশান্তি প্রত্যক্ষ করেছে মুর্শিদাবাদ জেলা। সামশেরগঞ্জ, সুতি সহ একাধিক এলাকায় আগুন লাগানো, ব্যাপক ভাঙচুর এবং বহু মানুষের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর মতো ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার এক মাস অতিক্রান্ত হলেও বিভিন্ন এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, জাতীয় মহিলা কমিশন, মানবাধিকার কমিশন সহ শাসক-বিরোধী একাধিক দলের প্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তবে ঘটনার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে একবারও মুর্শিদাবাদ সফর করেননি। অবশেষে প্রায় মাসখানেক পর আগামী সোমবার (৫ মে) মুর্শিদাবাদে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। জানা যাচ্ছে, বহরমপুরে পৌঁছে প্রথমে তিনি একটি সাংগঠনিক বৈঠক করবেন। এরপর মঙ্গলবার (৬ মে) হেলিকপ্টারে করে হিংসা-বিধ্বস্ত এলাকাগুলি ঘুরে দেখবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও মানুষদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। এরপর ধুলিয়ানে একটি প্রশাসনিক বৈঠক করারও কথা রয়েছে তাঁর। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর থেকে ক্ষতিগ্রস্তরা কী ধরনের সহায়তা বা নির্দেশিকা পান, সেইদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর দেরিতে এই সফর নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা সুর চড়িয়েছেন তাঁর বিরুদ্ধে। এই প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “এতদিন বাদে কী দেখতে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী? এখন তো সব ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে রাজ্যের পরিস্থিতি মোটেও ভালো নয়। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ শিকেয় উঠেছে।”
দেখুন শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য:
[এখানে সম্ভবত একটি ভিডিও লিঙ্ক ছিল, যা টেক্সটে দেওয়া হয়েছে]
মুর্শিদাবাদের শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর কতটা কার্যকর হয় এবং রাজনৈতিক তরজা কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।