OMG! হঠাৎ ভেঙে পড়ল হাসপাতালের করিডর, দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৩ রোগীর, শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরে মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল (MGM) হাসপাতালে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩ জন রোগী প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার হাসপাতাল ভবনের একটি করিডরের একাংশ হঠাৎ করেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে, যার ফলে বহু রোগী ও তাদের পরিজন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এদিন দুপুরে হাসপাতালের তিন তলার মেডিসিন ডিপার্টমেন্টের করিডরে বেশ কয়েকজন রোগীকে রাখা হয়েছিল। আচমকাই সেই করিডরটি ভেঙে নিচে পড়ে যায়। শুধু তিন তলা নয়, একই সঙ্গে দোতলা এবং একতলার করিডরের কিছু অংশও ধসে পড়ে বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সিভিল ডিফেন্স এবং টাটার বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকার্য শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে রোগীদের উদ্ধারের কাজ চলে। জামশেদপুরের ডেপুটি কমিশনার অনন্য মিত্তল জানিয়েছেন, মোট ১৫ জন রোগী ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিলেন। উদ্ধারকারী দল ১৩ জনকে সেখান থেকে জীবন্ত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, চাপা পড়াদের মধ্যে ২ জনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক রোগীর মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

এই দুঃখজনক ঘটনার পর ঝাড়খণ্ড সরকার মৃত ও আহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরফান আনসারি মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। কী কারণে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে প্রশাসন। অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই কমিটিকে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশও ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, “জামশেদপুরের এমজিএম হাসপাতালের জরাজীর্ণ ভবনের একাংশ ভেঙে পড়ে রোগী মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। নিহতদের আত্মাকে শান্তি দিক মারাংবুরু এবং তাঁদের পরিবারবর্গকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দিক, এই কামনা করি।” তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জরুরি ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন।