“হিন্দু ধর্ম থেকে ‘বহিষ্কৃত’ রাহুল গান্ধী”- কড়া পদক্ষেপ নিলেন শঙ্করাচার্য, জেনেনিন কেন?

সংসদীয় কক্ষে দেওয়া একটি মন্তব্য এবার গভীর ধর্মীয় বিতর্কের জন্ম দিল। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে হিন্দু ধর্ম থেকে ‘বহিষ্কার’ করার ঘোষণা করেছেন বদ্রীনাথের শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ। সংসদে মনুস্মৃতি নিয়ে কংগ্রেস সাংসদের করা মন্তব্যে গভীরভাবে অসন্তুষ্ট হয়ে এবং সেই মন্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েও উত্তর না পেয়ে তিনি রবিবার এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, হিন্দুধর্ম থেকে কাউকে ‘বহিষ্কার’ করার মতো ক্ষমতা আসলে কোনো ব্যক্তি বা ধর্মগুরুর আছে কিনা।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। লোকসভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী হাতে মনুস্মৃতির একটি অনুলিপি নিয়ে তার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “মনুস্মৃতি ধর্ষকদের রক্ষা করে।” বিজেপির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেছিলেন, “এটা আপনাদের ধর্মগ্রন্থ। এখানে পরিস্কার লেখা আছে, যারা মনুস্মৃতি মানবে না, তারা হিন্দু নয়।”
রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যকে ‘হিন্দু-বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে এর ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ। কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও রাহুল গান্ধী তাঁর কাছে কোনো জবাব পাঠাননি বা নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমাও চাননি। এরপরই বদ্রীনাথের শঙ্করাচার্য ঘোষণা করেন, “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, রাহুল গান্ধীকে কোনও মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। পুরোহিতরা তাঁর জন্য পুজোও করবেন না।” এই ঘোষণার সঙ্গেই তিনি রাহুল গান্ধীকে হিন্দু ধর্ম থেকে ‘বহিষ্কার’ করার কথা জানান। তবে ধর্ম থেকে কাউকে বহিষ্কার করার মতো প্রথা বা অধিকারের বৈধতা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।
স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ তার স্পষ্টবাদী মন্তব্যের জন্য পরিচিত। এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অযোধ্যায় অসম্পূর্ণ রাম মন্দিরের উদ্বোধন নিয়ে তিনি মোদী সরকারের সমালোচনা করেছিলেন এবং শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে) নেতা উদ্ধব ঠাকরের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এর ফলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ তাকে বিজেপি বিরোধী শিবিরের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই দেখত। এই পরিস্থিতিতে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।